সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট বন্ধের কারণে ভোগান্তি চরমে

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৮
দীর্ঘ দু‘বছরেরও বেশি সময় ধরে সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এদিকে সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়ে এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) গতকাল রবিবার সিলেটে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। আটাব নেতৃবৃন্দ বলেন, সিলেট-ঢাকা অভ্যন্তরিণ রুটেও ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ বিমান ঢাকা-লন্ডন ও ঢাকা-জেদ্দার যাত্রী হারাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালু না হওয়ায় প্রবাসীরা নানা ভোগান্তিতে রয়েছেন। ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট ঘন কুয়াশার অজুহাতে বন্ধ করা হয়। পরে এ নিয়ে সিলেট ও লন্ডনে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও তা হয়নি। বর্তমানে লন্ডন থেকে সিলেটে কয়েকটি ফ্লাইট আসলেও সিলেট থেকে লন্ডনে সরাসরি কোন ফ্লাইট যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিলেট অঞ্চলের লোকজন ও প্রবাসীদের দাবির প্রেক্ষিতে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলেও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে সিলেটের যাত্রীরা ঢাকা হয়ে বিদেশে যেতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আটাব সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার জলিল। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ট্রাভেলস ব্যবসায়ী ইমদাদুল হক বেলাল, খন্দকার সিপার আহমদ ও আবদুল কাইয়ূম প্রমুখ। আটাব নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, প্রায় একবছর ধরে বিমানের সিলেট-ঢাকা অভ্যন্তরিণ ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। এতে লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী সিলেটী প্রবাসীরা বাংলাদেশ বিমানে ভ্রমণে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন। ফলে বিমানের যাত্রীও কমে গেছে। সিট খালি রেখে বিমানকে লন্ডনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে। তারা বলেন, চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে সপ্তাহে জেদ্দার উদ্দেশ্যে বিমানের দুইটি ফ্লাইট ছেড়ে যায়। কিন্তু সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কোন ফ্লাইট না থাকায় ওমরাহ হজগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিষয়টি নিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে আটাব নেতৃবৃন্দ দাবি করেন। উল্লেখ্য, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করণের উদ্যোগ নেয়া হয় ৯৬ সালে। ১৯৯৮ সালের ২০ ডিসেম্বর ওসমানী বিমানবন্দরকে দেশের তৃতীয় আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর করার ঘোষণা দেয়া হয়।