ইন্টার্নি চিকিত্সকদের পর এবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছেন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কর্মচারীরা। এতে অচল হয়ে পড়েছে হাসপাতালের চিকিত্সা সেবা কার্যক্রম। গতকাল রবিবার সকাল থেকেই হাসপাতালের মূল ফটক আটকে ধর্মঘট পালন করেন কর্মচারীরা। এর আগে ধর্মঘট শুরু করা ইন্টার্নি চিকিত্সকরা গতকাল কাজে যোগ দেননি। এতে করে কোন রোগীই গতকাল চিকিত্সা সেবা পাননি। জরুরি বিভাগেও কোনো রোগীকে চিকিত্সা দেয়া হয়নি। অনেক রোগীকে হাসপাতালে এসে চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কর্মচারীদের ওপর হামলার বিচার, আহত কর্মচারীদের ফ্রি চিকিত্সা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আমাদের এই ধর্মঘট।’ বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের এক নারী ইন্টার্নি চিকিত্সকের কক্ষে একজন পুরুষ ওয়ার্ড বয়ের প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিত্সক ও কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চিকিত্সক ও কর্মচারীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর ইন্টার্নি চিকিত্সকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকেন। শনিবার দুপুরের পর থেকেই সবধরনের চিকিত্সা সেবা বন্ধ রেখেছেন ইন্টার্নি চিকিত্সকরা। আর গতকাল থেকে কর্মচারীরা ধর্মঘট ডাকায় পুরো স্থবির হয়ে পড়েছে হাসপাতাল।
ইন্টার্নি চিকিত্সক শরিফুল ইসলাম বলেন, ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস ও হাসপাতালের সবধরনের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত কর্মচারী জামিলকে স্থায়ী বহিষ্কার, ইন্টার্নি চিকিত্সকদের নিরাপত্তা জোরদার, ঘটনার দায় থেকে ইন্টার্নি চিকিত্সকদের মুক্তি, অস্থায়ী পরিচালক ক্যাপ্টেন এম এ সালাম এবং উপপরিচালক ও কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল বাশারের অপসারণ এবং চিকিত্সকদের উপর নির্যাতন বন্ধ করা। কেবল দাবি মানা হলেই তারা কাজে ফিরবেন।
গত শনিবার দুপুরে সংঘর্ষের পর প্রশাসন ও চিকিত্সকদের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকের একপর্যায়ে ইন্টার্নি চিকিত্সকরা বের হয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় এককোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন হাসপাতাল পরিচালক ক্যাপ্টেন এম. এ. সালাম। কর্মচারীদের দাবির ব্যাপারে তিনি বলেন, ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
