ঘর সাজাতে পর্দা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৪, ২০:১০
যারা বাড়ির ব্যাপারে সচেতন তাদের মনে পর্দা নিয়ে চলে নানা পরিকল্পনা, মূলত বাড়ির সৌন্দর্য বাড়াতে দরজা-জানালার পর্দা বেশ বড় ভূমিকা পালন করে। বাড়ির ভিতরের রঙয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পর্দার রং কেমন হবে, কী রঙের পর্দা ভালো মানাবে কেমন ডিজাইন বা কাপড় ভালো হয়, পর্দার রেল কেমন হবে—ইত্যাদি নিয়ে অনেকেরই জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই, আবার অনেকেই আছেন। এ ব্যাপারে কিছুটা উদাসীন, যারা উদাসীন তাদের বলছি, একটু চেষ্টা করে দেখতে পারেন—একটি পর্দা কেমন করে পুরো বাড়ির সৌন্দর্য পাল্টে দিতে পারে। কেমন ধরনের পর্দা হবে পর্দা যে সবসময় কাপড়ের হবে তা কিন্তু নয়, আপনি যদি একটু ভিন্নতা আনতে চান, তা হলে কাপড়ের বদলে ব্যবহার করতে পারেন বাঁশ বা বেতের চিক, ভার্টিক্যাল ব্লাইন্ড, পাটি বা মাদুর, পাট বা পুঁতির তৈরি দড়ি এমনকি শাড়িও। পর্দা কেনার আগে প্রথমেই ভাবতে হবে আপনার ঘরের রঙের ব্যাপারে, তারপরই আসে আপনার বাড়ির আকার-আয়তন, দেয়াল ও মেঝের রং, আসবাবের রং ও আকার-আকৃতি। উল্লেখিত বিষয়গুলো মাথায় রেখে আপনার নির্ধারণ করতে হবে কোন ঘরে কোন ধরনের পর্দা দিবেন বা কী রঙের পর্দা এবং তার ডিজাইনই-বা কেমন হবে। হাজার রঙের কাপড়ের মাঝে আপনার পছন্দমতো জানালার মাপ অনুযায়ী গজ হিসেবেও কাপড় কিনে নিতে পারেন, অথবা একটু বৈচিত্র্য চাইলে শীতল পাটি কিংবা পোড়া বাঁশ বা বেতের চিক ব্যবহার করতে পারেন। বসার ঘর অথবা শোবার ঘরে দিতে পারেন এ ধরনের পর্দা। আপনার আসবাব যদি হয় একটু গাঢ় রঙের, যেমন—মেহগনি বা গাঢ় খয়েরি অথবা রট আয়রন বা পেটা লোহার, তবে এ ধরনের পর্দা বেশ মানানসই হবে। আজকাল বিভিন্ন ধরনের ভার্টিকাল ব্লাইন্ড পাওয়া যায়। যা পর্দা হিসেবে বাড়িতে অহরহ ব্যবহার হচ্ছে। বসার ঘর বা খাবারের ঘরে দেয়ালের বদলে যদি থাকে কাঁচের পার্টিশন, সে ক্ষেত্রে ভার্টিকাল ব্লাইন্ড ব্যবহার করতে পারেন। আজকাল দরজায় পর্দা ব্যবহার করা হয় না, তবে কোনো কমন প্লেসের দরজা, রান্না ঘরের দরজায় পার্টিশন হিসেবে পাট বা পুঁতি ব্যবহার করতে পারেন। পর্দার রং কেমন হবে সাধারণত দেয়ালের, মেঝে ও আসবাবপত্রের রঙের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পর্দার রং নির্বাচন করা উচিত। বাড়ির সদস্যদের পছন্দ অনুযায়ী একেক ঘরে একেক রঙের পর্দা লাগাতে পারেন বা পুরো ঘরে একই রঙের পর্দা লাগাতে পারেন। আপনার মেঝে যদি হয় কাঠের বা কাঠ রঙের তবে সেক্ষেত্রে হাল্কা বা হাল্কা প্রিন্টের পর্দা হলে ভালো হয়, তা না হলে ঘরটা দেখতে ছোট এবং জবড়জং লাগবে। শোবার ঘরে দিতে পারেন হালকা নীল, হালকা সবুজ, বেগুনি, বিজ কিংবা গোলাপি রঙের পর্দা। ড্রইংরুমে ব্যবহার করতে পারেন কমলা, লাল, নীল, চকলেট, বাদামি বিজ রঙের পর্দা। শিশুর ঘরে তার পছন্দের কার্টুন, রূপকথা বা সৌরজগতের কাহিনিনির্ভর পর্দা দিতে পারেন। খাওয়ের ঘরে একটু মোটা ও গাঢ় রঙের পর্দা দেওয়াই ভালো, যেহেতু সেখানে লোকসমাগম বেশি থাকে। আজকাল বাথরুমের জানালায়ও পর্দা থাকে, এ ক্ষেত্রে ভার্টিকাল ব্লাইন্ড দিতে পারেন অথবা পর্দা দিলে হাল্কা রঙের নেটের পর্দা দেওয়াই শ্রেয়। পর্দার ডিজাইন কেমন হবে আজকাল গাঢ় রং কিংবা ভারি জমকালো পর্দার তুলনায় হালকা রং বা কাপড়ের পর্দার চল বেশি। দোকানে বিভিন্ন ডিজাইনের পর্দা পাওয়া যায়, পর্দা হতে পারে আপনার জানালার সমান লম্বা কিংবা মেঝে পর্যন্ত, আপনার পছন্দ ও সুবিধামতো পর্দা বানিয়ে নিতে পারেন এর পেছনে হুক বা রেলে ঢুকিয়ে টানানোর ব্যবস্থায়। প্লিট নিয়ে অথবা প্লিট ছাড়া সমান করে পর্দা তৈরি করতে পারেন। আজকাল রেলের সঙ্গে বোতাম দিয়েও পর্দা লাগানোর ব্যবস্থা দেখা যায়। আবার ডিজাইন হিসেবে দুটো পর্দা একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন। আজকাল বিভিন্ন রকমের পর্দার রেল পাওয়া যায়। ওপরের দিক দিয়ে ডিজাইন করা, দুই পাশে ডিজাইন করা, রড আয়রন, স্টিল, বাঁশ ও কাঠের তৈরি হতে পারে। কাঠ বা রড আয়রনে চাইলে আপনি অর্ডার দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন। পর্দা বেঁধে রাখার অনেক কিছু পাওয়া যায়—পাট, পুঁতির তৈরি দড়ি কিংবা ফিতা, শুকনো ফুল, শামুকের মালা কিংবা দেয়ালের সঙ্গে হুক লাগিয়ে বেঁধে রাখতে পারেন। পর্দার যত্ন কিভাবে নেওয়া যায় যারা অনেক বছর একই পর্দা ব্যবহার করার ইচ্ছে রাখে, তাদের খরচ একটু বেশি হলেও টেকসই কাপড়ের পর্দা কেনা উচিত। বাংলাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক এর উপর ধুলাবালির প্রাদুভার্ব, এ অবস্থায় হালকা রঙের পর্দা খুব তাড়াতাড়ি ময়লা হয়ে যায়। আবার ধুলোতে রংটা নষ্ট হয়ে যায়। তাই পর্দার কাপড় এমন হওয়া উচিত, যাতে ময়লা বসে না এবং সহজেই ময়লামুক্ত করা যায়। পর্দা কোথায় পাবেন তৈরি পর্দা পাবেন বিভিন্ন দোকানে; যেমন-আড়ং, যাত্রা, গুলশান ১-২ মার্কেট, নিউমার্কেট। কাপড় কিনতে চাইলে যেতে পারেন গুলশান, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, মৌচাক, নবাবপুর, ইসলামপুর, বায়তুল মোকারম।