খাদ্য সামগ্রীতে পলিথিনের ব্যবহার বেশি
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
কমলগঞ্জের হাটবাজারে সর্বত্র এখন নিষিদ্ধ পলিথিন অবাধে ব্যবহূত হচ্ছে। মাছ, মাংস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পণ্য সামগ্রীর সাথে এই ব্যাগ ফ্রি দেওয়া হচ্ছে। রমজানে ইফতার ও খাদ্য সামগ্রীতে পলিথিন ব্যাগ ও প্লাস্টিকের ছড়াছড়ি চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিথিনে মোড়ানো গরম খাবার চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি। পলিথিন ও প্লাস্টিক জীববৈচিত্র্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতি ছাড়াও জনজীবন ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করছে।
উপজেলার একজন সবজি ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ন্যূনতম দুইশত পলিথিন ব্যাগে সবজি দিতে হয়। দু’জন ইফতারি বিক্রেতা বলেন, পিঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপী, খেজুর, বিরিয়ানি, আলুরচপসহ সকল গরম খাবারগুলো পলিথিন ব্যাগে দেওয়া হয়। প্লাস্টিকের বোতলে তরল জাতীয় সকল খাবার বিক্রি হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পলিথিন সহজলভ্য হওয়ায় তরিতরকারীর খোসা, মাছের বর্জ্য, খাবারের উচ্ছিষ্ট, বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা ভরে ডাস্টবিন, রাস্তাঘাট ও মাঠে ময়দানে ফেলা হয়।
২০০২ সনে সরকারি সিদ্ধান্তে পলিথিন ব্যাগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে আইন করা হয়।
কমলগঞ্জের লেখক আহমদ সিরাজ বলেন, ক্ষতিকর জেনেও হাটবাজারে ইফতারি সামগ্রী পলিথিনের উপর নির্ভরশীল। পলিথিন মাটির ক্ষতি করে এবং ফসলি জমি ও নদী-নালায় ফেলার কারণে মাটি, পানি, পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তারপরও উত্পাদন বন্ধ হচ্ছে না।
ব্যবসায়ী প্রেমানন্দ দেবনাথ বলেন, বাজারে নিজস্ব তৈরি ব্যাগ নিয়ে না গেলে পান-সুপারী, মাছ, মাংস, ডিম, সবজি, ওষুধ থেকে শুরু করে একাধিক পলিথিন পাওয়া যায়। ব্যবসায়ী ইউনুস মিয়া, মহিউদ্দীন বলেন, ক্রেতাদের মালামালের সাথে ব্যাগে মালামাল ভর্তি করে দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশাসন নজরদারি করলে তা মোটেই সম্ভব নয় বলে তারা মন্তব্য করেন।
চিকিত্সক পিন্টু দেবনাথ বলেন, পলিথিনের কারণে মানবদেহে বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ হয়। এমনকি ক্যান্সারের জীবাণুরও জন্ম দেয়। এটি অপচনশীল উপাদান হিসাবে প্রকৃতিতে রয়ে যায় এবং পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটাতে থাকে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের সহকারী পরিচালক রাসেল নোমান ইত্তেফাককে বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পলিথিন ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। পলিথিন বিক্রয়, বিপণনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। কারখানার কোনো সন্ধান পাওয়া গেলেও অভিযান চালানো হবে এবং এদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পক্ষেও তিনি মতামত প্রদান করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, যেসব দোকানে পলিথিন বিক্রি করা হয় সেসব দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
