জ্বলে উঠলো আফ্রিদির ক্যারিয়ারও

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৪, ২২:১২
১৮ এপ্রিল, ১৯৮৬; শারজাহ। অস্ট্রেলিয়া এশিয়া কাপের ফাইনাল। আগে ব্যাট করে গাভাস্কার-শ্রীকান্ত-ভেঙসরকারদের দাপটে ২৪৫ রান তুললো ভারত। জবাব দিতে নেমে চেতন শর্মা, মদনলালদের বোলিংয়ের সামনে যেন মুখ থুবড়ে পড়ল পাকিস্তান। খেলা গড়ালো শেষ ওভারে। চেতন শর্মার শেষ বলে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল চার রান। এই ম্যাচ কী আর পাকিস্তান জিততে পারে? পারে! ক্রিকেটের গৌরবময় অনিশ্চয়তার চরমতম এক উদাহরণ সেই বলেই তৈরী করে ফেলেছিলেন ‘বড়ে মিয়া’ জাভেদ মিয়াদাদ। চেতন শর্মার শেষ বলটা আছড়ে ফেলেছিলেন বাউন্ডারির বাইরে। তৈরী হয়ে গিয়েছিল ইতিহাস। সেই ঘটনার প্রায় ২৮ বছর পর গত রবিবার আবার সেই নাটক, আবার সেই ইতিহাস ফিরে এলো ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। আবার ভারতের করা ২৪৫ রান তাড়া করতে নেমে আবারও সেই ৯ উইকেট হারিয়ে ফেললো পাকিস্তান। এবার শেষ ওভারে দরকার ছিল ৯ রান। কিন্তু এবার আর নাটকটা জাভেদ মিয়াদাদের মতো শেষ বল পর্যন্ত যেতে দিলেন না। শেষ ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে রবিচন্দন অশ্বিনকে পরপর দুই ছক্কা মেরে নাটকের শেষ টেনে দিলেন শহীদ আফ্রিদি। ২৮ বছর পর আবার ভারতের বিপক্ষে ১ উইকেটের এক জয় পেল পাকিস্তান। এই রোমাঞ্চকর ম্যাচের ঘোর থেকে ক্রিকেটপ্রেমীদের বের হওয়াটা এতো সহজ ব্যাপার হবে না। আজই দলিলে লিখে দেয়া যায়, আসছে কয়েক যুগ ধরে এই একটা ম্যাচের কারণে জাভেদ মিয়াদাদের মতো কিংবদন্তীর পাশেই উচ্চারিত হবে শহীদ খান আফ্রিদির নাম। আফ্রিদিকে ক্রিকেট দুনিয়া চিনতো এই ‘বুম বুম’ ব্যাটিংয়ের জন্য। মাঝে মাঝে কিছু ঝলক, কিছু বিস্ময় বাদ দিলে গত কয়েক বছর ধরেই ব্যাটের ধারটা আফ্রিদি হারিয়ে ফেলেছিলেন। আদি পরিচয় স্পিনার হিসেবেই চালিয়ে যাচ্ছেন ইদানীং। ফলে এদিন হারতে বসা ম্যাচে যখন ব্যাট করতে এলেন, তখন খুব বেশী লোক নিশ্চয়ই তার ওপর ভরসা রাখতে পারেননি। তবে আফ্রিদি বলেছেন, তার বিশ্বাস ছিল। একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, অশ্বিনের ক্যারম বলটা কিভাবে বুঝতে হবে, সেটা তিনি আগেই ধরে ফেলেছিলেন। আর ফিল্ডিং দেখে বুঝে ফেলেছিলেন, ক্যারম বলই আসছে। ফলে শট করাটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল তার জন্য, ‘আমি নিশ্চিত ছিলাম, ক্যারম বলটা খেলতে পারবো। আর সেটা ধরেও ফেলেছিলাম। যদিও ও বলটা একটু টেনে দিয়েছিল। তারপরও ভালো কানেক্ট করতে পেরেছি। তাকিয়ে দেখি, অনসাইডে ফিল্ডিং সাজিয়েছে, অফে ফিল্ডার রেখেছে অনেক ওপরে। মানে, আমি এক্সট্রা কাভার দিয়ে মারতে পারি।’ বলাই বাহুল্য, এই টেকনিক্যাল চিন্তা দারুণভাবে সফল হয়েছে বলেই মানতে হবে। অন্তত অমন দুটো ছক্কার পর না মেনে আর উপায় কী! এই সফলতা পাকিস্তানকে যেমন এনে দিয়েছে অসাধারণ এক জয়; তেমনই আরেকবার আফ্রিদির ক্যারিয়ার-সলতেটাও জ্বালিয়ে দিয়েছে। আফ্রিদি বলছেন, এমন একটা ইনিংস খেলার বিকল্প তার ছিল না। কিন্তু কেন খেলতে পারছিলেন না, সেটাও এবার পরিষ্কার করে দিলেন আফ্রিদি, ‘আগের ম্যাচেও নির্বোধের মতো খেলে আউট হয়ে গেছি। ফলে রান আমাকে করতেই হতো। আসলে ২০-২৫ ওভার থাকতে উইকেটে এলে ক্যাপ্টেন বলে, সিঙ্গেল-ডাবলসের ওপর খেলো। এতে আমি দ্বিধান্বিত হয়ে যাই, নিজের খেলাটা খেলতে পারি না। এবার যে অবস্থায় এসেছি, এতেই আমি সেরা খেলাটা খেলতে পারি।’ মনে হয়, পাকিস্তান অধিনায়ক এখন থেকে আফ্রিদিকে এমন অবস্থায়ই বেশী আশা করবেন!