পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ‘বন্যপ্রাণীর প্রতি সবাইকে আরো দয়ালু হতে হবে। আমাদের কল্যাণের জন্যই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। মানুষের অসচেতনতার কারণে অনেক বন্যপ্রাণী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের মানুষ সচেতন হলেও বন্যপ্রাণীর সাথে আমরা অনেক সময় হিংস্র আচরণ করি। এ মানসিকতা পরিহার করতে হবে।’ গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস-২০১৪ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, অনেক ইস্যুতে আমাদের মধ্যে স্ববিরোধিতা রয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে। শ্বেতভল্লুক, পেংগুইন যেমন মারা পড়ছে অফ্রিকায় হাতিও মারা যাচ্ছে। কিন্তু তাই বলে আমাদের দায়িত্ব খাটো করা চলবে না। মানুষের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, তুরাগ, বুড়িগংগা ও শীতলক্ষ্যা নদীর দিকে তাকালে আমাদের কষ্ট হয়। এসব নদী রক্ষায় আমাদের সচেতনতার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণীর সাথে অনেক সময় আমরা হিংস্র আচরণ করি। যুক্তরাষ্ট্রে কাঠবিড়ালি ঘরে চলে আসে। কিন্তু আমরা সম্মুখে যা পাই তাকে আঘাত করি। উন্নত দেশে কেউ বন্যপ্রাণীকে আঘাত করে না। ভারতে হরিণ শিকার করে সেলিব্রিটিকে জেলে যেতে হয়। তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্বকে খাটো করে দেখলে হবে না। প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতেই হবে। বন এবং বন্যপ্রাণী রক্ষার কাজটি রাতারাতি হবে না। এ কাজে দাতারা আমাদের সহায়তা দিচ্ছে। তাদের সহায়তা দিয়ে আমরা একটি কাঠামো তৈরি করছি। নিজেকে, প্রকৃতি, বন এবং বন্যপ্রাণীকে ভালোবাসলেই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে পারবো।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারি বলেন, বাংলাদেশে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। ১৯২৭ সালের বন আইনকে যুগোপযোগী করে সংশোধন করা হয়েছে। ১৯৭৩ সালের বন্যপ্রাণী আইনকে সংশোধন করে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে।
আইইউসিএন এর স্থানীয় প্রতিনিধি ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বন্যপ্রাণীর বাণিজ্য বন্ধ করতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট চালু করার ওপর জোর দেন।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অপরূপ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি ইনাম আল হক, বায়োডাইভারসিটি ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. আনিসুজ্জামান খান, বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে প্রমুখ।
এদিকে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা শুরু হয়ে প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী এবং নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে প্রেসক্লাব চত্বরে বন্যপ্রাণী মেলার আয়োজন করা হয়। পরিবশে ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এর উদ্বোধন করেন।
