চিকিত্সক একুশ উপস্থিতি শূন্য!

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৪, ২২:৫০
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সা সেবা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। উপজেলার ৪ লাখ ৩০ হাজার ৭৭৯ জন মানুষের চিকিত্সার জন্য এই হাসপাতালটিতে গতকাল সোমবার একজন ডাক্তারও উপস্থিত ছিলেন না। জানা গেছে, হাসপাতালে ২১ চিকিত্সকের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৯ জন কর্মরত আছেন। এরমধ্যে ওইদিন পাঁচজন ছুটিতে ছিলেন, অন্য চারজনের উপস্থিতিও চোখে পড়েনি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিত্সকের ১০টি কক্ষের মধ্যে ৭টিই খালি পড়ে আছে। এমনকি দেখা মেলেনি হাসপাতালটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএ) আবুল কাশেমেরও। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গেছেন জরুরি কাজে। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন। এসব তথ্য সংগ্রহের সময় অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনেরা চিকিত্সকের অনুপস্থিতির কারণে এ প্রতিবেদকের কাছে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উপজেলার সাভার গ্রামের মো. রহুল আমীন চিকিত্সকের দেখা না পেয়ে স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের চিকিত্সা করিয়েছেন সেবিকা দিয়ে। এরকম অসংখ্য রোগীর স্বজনেরা গত দুইদিন যাবত্ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিত্সকের খোঁজ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। গত রবিবারও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন চিকিত্সক ছিলেন না বলে উপস্থিত লোকজন জানিয়েছেন। সাভার গ্রামের মো. সোহরাব উদ্দিন তার বৃদ্ধা মাকে নিয়ে হাসপাতালে এসে দুই ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছেন চিকিত্সকের জন্য। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ‘কোন চিকিত্সক নেই’- এ ধরনের নোটিস টানিয়ে দিলেই হয়। তাহলে কষ্ট করে দূর থেকে এই হাসপাতালে না এসে অন্য জায়গায় চলে যেতাম। ফজলুল হক (৬০) জানান, কুড়াল পড়ে তাঁর পা কেটে যায়। চিকিত্সা করাতে এসে দেখি চিকিত্সক নেই। জরুরি বিভাগ থেকে একজন ব্যান্ডেজ বেঁধে দিয়েছে। এখন কি ওষুধ খাব এ পরামর্শ পাচ্ছি না। তাই গাছতলায় বসে অপেক্ষা করছি চিকিত্সকের জন্য। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সকের পদ রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে পাঁচজন কনসালটেন্ট (পরামর্শক চিকিত্সক) ছুটিতে রয়েছেন। তবে ওইসব চিকিত্সক মাঝে-মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করে হাজিরা খাতায় সপ্তাহের পুরো কর্মদিবসের স্বাক্ষর দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে বদলিজনিত কারণে নবসৃষ্ট পদে ও প্রেষণে থাকায় মোট ১২ চিকিত্সকের (মেডিক্যাল অফিসার) পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। মাত্র চারজন চিকিত্সক দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার এই হাসপাতাল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন আসম আব্দুছ ছামাদ মুঠোফোনে জানান, ‘কিছুদিন আগেও অনুপস্থিত থাকা চিকিত্সকদের শোকজ করা হয়েছে। এতেও কাজ হচ্ছে না। এবার কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’