আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচে ও গ্রীষ্মে বিদ্যুত্-পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে দেশের চারটি সার কারখানা বন্ধ রাখা হবে। সার উত্পাদনে ব্যবহূত গ্যাস বিদ্যুেকন্দ্রে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া চালু রাখা হবে সব তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র।
বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়ানো এবং সার কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি কিংবা এপ্রিলের শুরু থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, সেচের জন্য সার কারখানার গ্যাস বিদ্যুেকন্দ্রে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেচে কোন ক্রাইসিস তৈরি হয়নি। চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে গ্যাস বিদ্যুেকন্দ্রে সরবরাহ করা হবে বলে আশা করছি। চাহিদার তুলনায় প্রচুর গ্যাস রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বোরো মৌসুম। এর মধ্যে মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাস সেচে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর তিন লাখ ৭ হাজার পাম্পে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এজন্য বিদ্যুতের চাহিদা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৫৪ মেগাওয়াট। যা গত মৌসুমের চাহিদার তুলনায় বেশি। গত সেচ মৌসুমে দুই লাখ ৯৫ হাজার পাম্পে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হয়েছিল। এবার নতুন করে ১৩ হাজার পাম্পে সংযোগ দেয়ার আবেদন জমা পড়েছে।
বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (বিতরণ) আবু তাহের বলেন, ‘আমরা পেট্রোবাংলাকে বলেছি বোরো মৌসুমে সার কারখানাগুলো বন্ধ করে দিতে। যাতে সার উত্পাদনের গ্যাস বিদ্যুত্ উত্পাদনে ব্যবহার করা যায়।’
বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, সার কারখানা বন্ধ রেখে সেই গ্যাস বিদ্যুেকন্দ্রে দিলেও পুরো ঘাটতি মিটবে না। গত বছর ৪৮টি বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য গ্যাসের চাহিদা ছিল ১৩৫ কোটি ঘনফুট। এ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছিল ১০২ কোটি ঘনফুট। গ্যাসের ঘাটতি ছিল ৩৩ কোটি ঘনফুট।
এ বছর ৫৯৬ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার আরও চারটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র উত্পাদনে এসেছে। এর ফলে বিদ্যুত্ উত্পাদনে মোট গ্যাসের প্রয়োজন হবে ১৪৫ কোটি ঘনফুট। চারটি সার কারখানা বন্ধ রাখার পরও গতবারের চেয়ে খুব বেশি গ্যাস বিদ্যুতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এই সূত্র জানান, সার উত্পাদনে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, সেচ মৌসুমে একই পরিমাণ গ্যাস বিদ্যুত্ উত্পাদনে পাওয়া গেলে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় সারা দেশে লোডশেডিং কম করতে হবে।
এদিকে চারটি সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি এ সময় সব তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র হবে। দেশের ৩৫টি তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র চালাতে অক্টোবর মাস পর্যন্ত লাগবে প্রায় দুই হাজার টন জ্বালানি তেল। এজন্য বিপিসিকে প্রয়োজনীয় তেল মজুদ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
