বগুড়ায় জামায়াত-শিবিরের নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের এক বছর অতিবাহিত হলেও মূল হোতাদের চিহ্নিত এবং মামলার বেশিরভাগ আসামিকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গত বছরের ৩ মার্চ ওই তাণ্ডবের ঘটনায় মোট ৫৬টি মামলার মধ্যে ৫০টির অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছে পুলিশ। ৫টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। আর একটি মামলা এখনো তদন্তাধীন। তবে জানা গেছে, ওই ৫৫টি মামলায় লক্ষাধিক আসামি থাকলেও অভিযোগপত্রে মাত্র ৩ হাজার ১২০ জনকে আসামি দেখানো হয়েছে। এতো কম সংখ্যক ব্যক্তির নামে অভিযোগপত্র দাখিল করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তদন্তে নিরপরাধ হিসেবে যাদের পাওয়া গেছে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে ।
এদিকে চার্জশিটভুক্ত আসামির মধ্যে গত এক বছরে গ্রেফতার হয়েছে মাত্র ৮৪৩ জন। তারাও এখন জামিনে। বাকিদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার করতে পারেনি লুট হওয়া কোন মালামাল, কিংবা সেদিন শিবির কর্মীদের ব্যবহূত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা দোলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় হবার মাত্র দুইদিন পর ৩ মার্চ ভোরে ওই তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। ‘সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে’ মসজিদের মাইকে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে তার মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার মানুষকে রাস্তায় নামিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। নারী ও শিশুকে তারা ব্যবহার করে ‘মানব ঢাল’ হিসাবে। ওই দিনের সহিংসতায় ১২ জন নিহত হয়। পুলিশ সদস্যসহ আহত হয় কয়েকশ। ধ্বংস হয় প্রায় ৫০ কেটি টাকার সম্পদ। জেলার ৬টি পুলিশ ফাঁড়ি, ৬টি থানা ও ১৭টি সরকারি অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়। সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাসায় হামলা চালানো হয়। এসব হামলার ঘটনায় বগুড়ার বিভিন্ন থানায় ৫৬টি মামলায় জামায়াত ও শিবিরের শীর্ষ নেতাসহ লক্ষাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়; কিন্তু সিংহভাগ অপরাধীই এখনো রয়ে গেছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
আলোচিত এ ঘটনা জামায়াতের পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ ছিল বলে জানিয়েছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক পিপিএম। তিনি জানান, ওই দিনের ঘটনায় ৫০টি মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। তবে এরমধ্যে কিছু সংখ্যক অভিযোগপত্র এখনো আদালতে যায়নি। তবে এ সপ্তাহেই সেগুলো জমা দেয়া হবে। শুধু দুপচাঁচিয়ার একটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, চার্জশিটভুক্ত আসামিদের খুব শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। এ জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
