রাজধানীতে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৪, ২৩:২১
রাজধানীর কদমতলীর আলমবাগের মদিনা মসজিদ রোডের ১৩১ নাম্বার বাসায় কয়েকজনকে আটক রেখে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বড় একটি অপহরণকারী চক্র তাদের আটকে রেখেছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এমন একটি খবর আসে র্যাবের কাছে। মুহূর্তের মধ্যে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় র্যাব। বেলা ১টার দিকে অভিযানে পাঠানো হয় র্যাবের একটি দলকে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই ওই ভবনের চিলেকোঠায় অবস্থান করা অপহরণকারীরা ভবনের পাইপ বেয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। বেশ কিছুক্ষণ চলে ‘বন্দুকযুদ্ধ’। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করা হয় মোহাম্মদ ওয়াসিম (৫০) ও সংগ্রাম চৌধুরীকে (৪৫)। উদ্ধার করা হয় অপহূত চারজনকে। অপহরণচক্রের ওই দুইজনকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড হাসপাতাল) নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। র্যাব-১০-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার গোলাম সরোয়ার অভিযানের বর্ণনা দিয়ে বলেন, অভিযানে র্যাবেরও তিন সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হলেন- এসআই তাইবুর, এসআই জাহাঙ্গীর এবং কনস্টেবল রাজিব। তবে সুস্থ অবস্থায় অপহূত হওয়া চার ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থলে অপহরণকারীদের দুইটি পিস্তলও পাওয়া যায়। এছাড়া কক্ষে তল্লাশি করে আটক করা ব্যক্তিদের উপর নির্যাতন চালানোর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পাওয়া গেছে। এদিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিত্সক সহদেব রাজবংশী সাংবাদিকদের বলেন, র্যাব বেলা ২টার দিকে দুইজনকে নিয়ে এসেছিল। তবে আগেই তাদের মৃত্যু হয়। দুইজনের দেহেই গুলির চিহ্ন থাকার কথা নিশ্চিত করেন এই চিকিত্সক। র্যাব জানায়, ওয়াসিম বুড়িগঙ্গা ২ নম্বর সেতুর (পোস্তগোলা) টোল আদায়ের ইজারাদার ছিলেন। আশপাশ এলাকায় সিএনজি-অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টিও ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। তার বিরুদ্ধে আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে। নিহত সংগ্রাম চৌধুরীর স্ত্রী সায়মা চৌধুরী মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রবিবার রাতে আমার স্বামী কাজে বের হয়েছিলেন; কিন্তু দুপুর পর্যন্ত তিনি বাসায় ফিরে আসেননি। পরে জানতে পারি, তিনি বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।’ তাত্ক্ষণিকভাবে এর বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি । র্যাব-১০-এর অপারেশন অফিসার মেজর তাওফিক জানান, আহত র্যাব সদস্যদের চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। অভিযানে অপহূত ৪ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে গত রবিবার আশুলিয়া থেকে পানি সরবরাহকারী রানাকে (১৮), একই দিন জিরাবো থেকে গাড়ি চালক জাহাঙ্গীরকে (৩০), ওই দিনই যাত্রাবাড়ির সাইনবোর্ড থেকে জনীকে (৩২) এবং গত শনিবার ডেমরার সানারপাড় এলাকা থেকে গাড়িচালক আক্তারকে (৪২) অপহরণ করা হয়েছিলো। অপহরণের পর মুক্তিপণের জন্য তাদের নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। অপহূত সকলের শরীরেই নানা ধরনের নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি জানান, অপহূত সকলকে ইলেক্ট্রিক শক, চামড়া ব্লেড দিয়ে কেটে লবণ-মরিচ ছিটিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এই গ্রুপে আর কেউ আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিহত দুই জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।