আজ সকালে বেশ দেরি করেই ঘুম ভাঙল রবির। তাও আবার মায়ের বকুনি দিয়ে শুরু হল দিনটা। আজকাল রবির বেশ ক্লান্ত লাগে, কেবলই ঘুম পায়, মা রাগ করে চলে যায় বাসার কাজে। বাবা গেছেন রিকশা চালাতে। অন্য ভাই-বোনেরাও কাজে গেছে। শাহজাহানপুরের রবি তার মা-বাবার সথে বস্তিতে ছোট্ট একটা ঘরে থাকে। দিন গড়িয়ে সূর্য উঠছে। খুব খিদে পেয়েছে রবির। থালার ঢাকনা তুলে দেখেছে খাওয়ার কিছু আছে কিনা। পেল পান্তা ভাত ও শুকনা মরিচ। তাই খেয়ে হাতুড়ি নিয়ে রবি ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল। ইট ভাঙার কাজে প্রতিদিন রোদে বসে ইট ভাঙে। তাই হাতুড়ি তার নিত্য সঙ্গী। এখানে এসেও মালিকের কটুকথা শুনতে হয়। ভাঙতে থাকে ইট। ইটের খোয়ার সাথে গুঁড়ো হতে থাকে তার স্বপ্নগুলো। যখন রাস্তার পাশ দিয়ে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যেতে দেখে, নিজের ভাগ্যের প্রতি খুব নিরাশ হয়। কাজ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে আসে। রাতেও পায় না পেট ভরে খাবার খেতে। তাই শুয়ে পড়ে, সকালে জলদি উঠতে হবে। শুতেই স্বপ্ন দেখে এক সুন্দর সকালের। যে সকালে তাকে পান্তা ভাত খেয়ে হাতে হাতুড়ি নিতে হবে না, বরং থাকবে নতুন বই। এমনি করেই রাত পেরিয়ে যায়। সকালে না খেয়েই সে বেরিয়ে যায় হাতুড়ি নিয়ে। সেদিন কাজ করতে আর মন চাইল না রবির। বাড়ি ফেরার পথে নামল অঝোর ধারায় বৃষ্টি। নিজ ভাগ্যের ও কষ্টের কথা চিন্তা করে কান্না এল চোখে। বৃষ্টি আর চোখের জল এক হয়ে মিশে যায়। বাড়ি ফিরে আসার পরে রাতে ভীষণ জ্বর এলো রবির। একটু সেবা-যত্ন করার মতো কেউ নেই। জ্বরের মুখে পান্তা ভাত খাওয়ার ইচ্ছা করল না তার। পরদিন জ্বর নিয়েই ইট ভাঙার কাজে গেল সেই হাতুড়ি হাতে, যে তার নিত্য সঙ্গী। কাজ করতে যাওয়ার পরে শরীরে আজ শক্তি পাচ্ছে না, হাতুড়ি আর তুলতে পারল না সে। চোখে ঝাপসা দেখতে লাগল। হঠাত্ মালিকের ধমক খেয়ে বহু কষ্টে হাতুড়ি তুলে মারল ইটের ওপর, কিন্তু হাতুড়ি পড়ল হাতের ওপর। ব্যথায় ককিয়ে উঠল রবি, হাত দিয়ে ছুটে চলেছে রক্তের ধারা। কাজ হতে মালিক বের করে দিল তাকে। বাবা-মা তার চিকিত্সা করাতে পারল না টাকার অভাবে। ব্যথায় পট্টি বাঁধানো হাতে অসুস্থ রবি স্বপ্ন দেখছে, তার রঙিন কৈশোর দিনের, সবার মত সুখে বাঁচতে, খেলতে.........।
