কৃষক কন্যা সোনাই। বাবার কাছ থেকে যে লালজামা পেয়েছিল। সে জামা পড়ে বন্ধুদের সাথে পাড়াময় ঘুরে বেড়িয়েছে। সে তো হেমন্ত কালের কথা।
তার পরই এলো শীত। শখের লালজামা তাকে শীতের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। ঠান্ডায় ঠক ঠক করে কেঁপেছে। তাই সে বন্ধুদের নিয়ে প্রার্থনা করেছে, শীতকে চলে যেতে। একদিন, দুদিন, তিনদিন তাদের প্রার্থনায় কাজ হয়েছে। ঋতুরাজ বসন্ত নড়েচড়ে বসেছে। ওদের কষ্ট দেখে তারও মন খারাপ হয়েছে। কিন্তু কোকিল না ডাকলে, দক্ষিণের হাওয়া না বইলে সে তো আসতে পারবে না। হঠাত্ ওরা দেখল সরিষার হলুদ ফুল ঝরে পড়ছে। মটরশুটির গাছ বিবর্ণ হয়েছে। গাছের পাতা ঝরছে। কুয়াশা ভেদ করে রোদের দেখা মিলছে। ওরা নেচে উঠলো। তাই তো ফাগুন এলো বলে।
তারপর কুউ-উ, কুউ-উ স্বরে কোকিল ডাকল। লাল কৃষ্ণচূড়া ফুটল। বড় শিমুল গাছটি ফুলে ফুলে ছেয়ে গেল। সেখানে ফুলের মধু খেতে কত যে পাখির আগমন। কিচিরমিচির, ডাকাডাকি, নাচানাচি। সোনাইয়ের বন্ধুরা কেউ হলুদ শাড়ি, কেউ বা লালজামা পরে বকুল তলায় জমায়েত হলো। ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করতে। সবাই আনন্দে গেয়ে উঠল, আহা আজি এ বসন্তে....।
শারতাজ এফ রহমান
সদস্য নম্বর: ৭৬৯
সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ, তৃতীয় শ্রেণি
