কৃষি বিপ্লব অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৯
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, কৃষি বিপ্লব অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। এই কৃষি বিপ্লবে বাংলাদেশের অংশীদার হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত। এর মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশটি নিজেদের খাদ্যের চাহিদা নিজেরাই পূরণ করতে পারবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এনআরবি ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ-২০১৪-এর উদ্বোধনী ও স্বীকৃতি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরামউদ্দিন আহমদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিস-এর চেয়ারপার্সন এমএস সেকিল চৌধুরী। ড্যান মজীনা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক করিডোরে পরিণত হতে পারে। এ করিডোর দিয়ে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে বাংলাদেশ বিশাল বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে পারে। তবে বিনিয়োগ উত্সাহিত করতে কিছু বাধা ও সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ছাড়াও বন্দর, রাস্তা-ঘাট, রেল যোগাযোগ, জ্বালানি সরবরাহ সুবিধা বাড়তে হবে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের পক্ষেই এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব বলে তিনি জানান। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, অনাবাসী বাংলাদেশিদের অনেক কিছুই করার আছে। অর্থ বিনিয়োগ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে তারা উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। উইলিয়াম হানা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইইউ সহায়তা করবে। তবে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখার জন্য বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশকে আরো অনেক কিছু করতে হবে। ড. আতিউর রহমান বলেন, অনাবাসীদের পাঠানো অর্থ উত্পাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগ অর্থ রেমিট্যান্স থেকে এসেছে। একইসঙ্গে অনাবাসীরা এখন ব্যাংক খুলছেন, বিমান পরিবহন খাতে বিনিয়োগ করছেন। এমনকি বিদ্যুত্ উত্পাদনেও তারা বিনিয়োগ করছেন। আশাকরি, সিলেটসহ যেসব জায়গায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে সেখানেও তারা বিনিয়োগ করবেন। খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, অনাবাসীদের পাঠানো অর্থের বেশিরভাগই ব্যয় হয় জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয়ে। এ কারণে উত্পাদনশীল খাতে বিনিয়োগ ততটা হচ্ছে না। উত্পাদনশীল খাতে রেমিট্যান্সের বিনিয়োগ বাড়াতে সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য তিনি একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উপর জোর দেন। এছাড়া শেয়ার বাজারের মাধ্যমে শিল্প ও কারখানায় বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মত দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা ও রেমিট্যান্স অর্জনের জন্য দেশের কয়েকটি ব্যাংককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিরা এনআরবি ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ-২০১৪-এর উদ্বোধন করেন।