ঢাকাসহ সব সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনের দায়িত্ব ইসির

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৪, ২২:৫১
বহুবছর ধরে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন না হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওপর দায় চাপালেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আর জেলা পরিষদের নির্বাচন না হওয়ার জন্য সরকারকে দায়ী করলেন আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডি মন্ত্রী সংসদকে জানান, বিদ্যমান স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব ইসির। আরেক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি না করায় জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হচ্ছে না। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) এমপি পীর ফজলুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, বিদ্যমান স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ৬০ নম্বর আইন)- এর ধারা ৩৫ অনুযায়ী সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন প্রণীত বিধি অনুসারে সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদন করবে। অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জাপার সদস্য এ কে এম মাইদুল ইসলামের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ এর ১৯(ক) ধারা অনুযায়ী সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্বাচনের সময়সীমা নির্ধারণের বিধান রয়েছে। সরকার সময়সীমা নির্ধারণ করে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করলে নির্বাচন কমিশন জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। উপজেলা ও সিটি নির্বাচন দলীয়ভাবে করার চিন্তা নেই চট্টগ্রাম-১১ আসনের আওয়ামী লীগের এম. আব্দুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ সংসদকে জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সকল পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ হতে উপজেলা, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে দলীয়ভাবে নির্বাচনের পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সরকারের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। চট্টগ্রাম-১২ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি সামশুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারিভাবে আগামী জাতীয় নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক বরাদ্দ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৯০এফ-এ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রাধিকারের মধ্যে সরকারিভাবে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়ার কোনো বিধান নেই। প্রশ্নোত্তর পর্বে সৈয়দ আশরাফের কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে ঢাকা-৭ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম পুরান ঢাকার আঞ্চলিক ভাষায় বলেন ‘মাননীয় মন্ত্রী, সবকিছুতেই শুধু বলা হয় পরিকল্পনা, পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনা শব্দ শুনতে-শুনতে মানুষ অতিষ্ঠ। এখন সেই পরিকল্পনা চলে গেছে মহাপরিকল্পনায়। আসলে ঢাকার স্যুয়ারেজের অবস্থা এত খারাপ যে শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধের কারণে ঠিকমতো স্কুল-কলেজেও যেতে পারে না। এই অবস্থা দূর করতে স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা, তিতাস ও এলজিইডির এসব কার্যক্রম ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে দেয়া হবে কিনা।’ এর জবাব দিতে গিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ বলেন, তার বক্তব্য অনেকটা ঢালাও। ঢাকায় জনসংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। একবার প্রকল্প গ্রহণ করার পর আবার অতিরিক্ত চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। পানি শোধনাগার অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর পানি এত দূষিত, দুর্গন্ধ ও বিভিন্ন জীবাণুযুক্ত যে, তা শোধন করাও কষ্টসাধ্য। সেজন্য এখন পদ্মা থেকে পানি আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সংযুক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যকে বলতে চাই, আমরা নিজেরাই তো ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দখল করে, ভরাট করে মেরে ফেলেছি। মরা নদীগুলোকে জীবিত করার বিষয়ে আমাদের সবারই সচেতন হওয়া দরকার।’ সৈয়দ আশরাফ যখন নদী দখলের কথা বলছিলেন তখন হাজী সেলিমের মুখ ম্লান হয়ে যেতে দেখা যায়। কয়েকজন সংসদ সদস্যকেও দেখা যায়, হাজী সেলিমের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতে। প্রসঙ্গত, ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর কিছু অংশ ভরাট করার অভিযোগ রয়েছে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে।