‘গত ১৫ অক্টোবর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩০৪ জনকে হত্যা ও ৬৫ জনকে গুম করা হয়েছে’- গত শনিবার রাজবাড়ীর জনসভায় খালেদা জিয়ার দেয়া এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, যাদের হত্যা, গুম ও মামলা করা হয়েছে বলে আপনি অভিযোগ করেছেন, তাদের নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা, পদ, শাখাসহ পুরো তথ্য এক মাসের মধ্যে দিন। আর যদি না দিতে পারেন তাহলে মিথ্যাচারের জন্য প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজবাড়ীর জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে জঙ্গিবাদ ও নাশকতাকে উস্কে দিচ্ছেন, বৈধ সরকারকে পতনের নতুন চক্রান্তের জাল বুনছেন। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি থেকে তিনি এখনো বেরিয়ে আসেননি। এ কারণে দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য তিনি বিপজ্জনক ও হুমকিস্বরূপ।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে অবৈধ বলে এবং মেয়াদ পূর্তির আগে ক্ষমতা থেকে টেনে নামানোর কথা বলে মূলত খালেদা জিয়া অগণতান্ত্রিক আচরণ করছেন। তাকে মিথ্যাচার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে ইনু বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরে সাম্প্রদায়িক হামলার মূল হোতা ছিল বিএনপি-জামায়াত। সরকারের কাছে তার প্রমাণ আছে। রাজবাড়ির জনসভায় খালেদা জিয়া ‘জঙ্গি জঙ্গি’ শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে জঙ্গিবাদকে উস্কে দিয়েছেন। তিনি বলেন, গত ৫ মে হেফাজতের সমাবেশ নিয়েও খালেদা জিয়া মিথ্যাচার করেছেন। কল্পনাপ্রসূত আলেম হত্যাতত্ত্ব থেকে তিনি সরে আসেননি। তবে তিনি যে অভিযোগ করছেন তার পক্ষে কোন প্রমাণই দিতে পারছেন না।
এদিকে আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করবে তাদের হাত-পা কেটে দেয়া হবে বলে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম যে বক্তব্য দিয়েছেন সাংবাদিকরা সে প্রসঙ্গটি তুললে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোন নাগরিক আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। কেউ অগণতান্ত্রিক আচরণ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
