পাকিস্তানের বিপক্ষে তীরে এসে তরী ডোবার আরও একটি ম্যাচ হয়ে গেল মঙ্গলবার। তবে নিজেদের ইতিহাসের সেরা ব্যাটিং এই ম্যাচে পরাজয়ের আক্ষেপ আরও বাড়িয়েছে। বাংলাদেশই শুধু এই ম্যাচে সেরা ব্যাটিং করেছে, তা নয়। অনেক ব্যক্তিগত ও দলীয় মাইলফলক এই ম্যাচে ভাঙা-গড়া হয়েছে।
ফিরে দেখা যাক সেই সব রেকর্ডের ডালি
এটাই পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে মোহালিতে ৩২২ রান তাড়া করে জিতেছিল তারা। কার্যত এই প্রথম তারা ভারত ছাড়া অন্য আরো বিপক্ষে তিন শতাধিক রান তাড়া করে জিতলো; এর আগে চার বার তারা ভারতের বিপক্ষেই কাজটা করেছে।
শহীদ আফ্রিদি ২৫ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই পথে আবারও ১৮ বলে ফিফটি করেছেন তিনি; ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ১৮ বলে ফিফটি করলেন আফ্রিদি। অবশ্য ১৭ বলে ফিফটি করে রেকর্ডটা এখনও ধরে রেখেছেন সনথ জয়াসুরিয়া।
শহীদ আফ্রিদি এই নিয়ে ক্যারিয়ারে ৩২তম বারের মতো ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পেলেন। সর্বোচ্চ ম্যান অব দ্য ম্যাচ জয়ীদের তালিকায় পন্টিং ও ক্যালিসের সঙ্গে তৃতীয় স্থানে আছেন এখন তিনি। ৬২ বার পুরস্কার জিতে এক নম্বরে আছেন যথারীতি শচীন টেন্ডুলকার।
৩২৬ রান ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে বুলাওয়েতে ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করা ৩২০ রান ছিল সেরা।
দুই দলের শেষ ১০ ওভার করে, মোট ২০ ওভারে রান উঠেছে ২৩২! এই শতাব্দীতে শেষ ২০ ওভারে এটাই সর্বোচ্চ রান। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সেই বিখ্যাত ম্যাচে ওঠা ২২৯ রান।
বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটসম্যানই কমপক্ষে ফিফটি করেছেন। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। আর বিশ্ব ক্রিকেটে এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র ১২ বার।
এনামুল হক বিজয়ের সেঞ্চুরিটি বাংলাদেশি কোনো ওপেনারের জন্য মাত্র ১৩তম বারের মতো ঘটনা। সর্বশেষ এই কাজ করেছে তামিম ইকবাল; গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
সাকিব মাত্র ১৬ বলে খেলেছেন অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংস। ২০ রানের বেশী করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্ট্রাইকরেট স্পর্শ করেছেন তিনি। মাশরাফি বিন মুর্তজা কেনিয়ার বিপক্ষে ২০০৬ সালে ঠিক সমান বলে সমান রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
এনামুল ও ইমরুলের ১৫০ রানের জুটিটি উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয়। মেহরাব হোসেন অপি ও আল শাহরিয়ার বিদ্যুত্ সেই ১৯৯৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছিলেন সর্বোচ্চ ১৭০ রানের জুটি। সব উইকেট মিলিয়েই এটি বাংলাদেশের মাত্র অষ্টম ১৫০ রানের জুটি।
আহমেদ শেহজাদের পঞ্চম এই সেঞ্চুরিটি বাংলাদেশের বিপক্ষে রান তাড়া করতে গিয়ে পাকিস্তানী কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি।
কোনো বৈধ ডেলিভারি না দিয়েই কিছু রান দিয়ে বোলিং শেষ করে ফেলার ক্ষেত্রে আব্দুর রেহমান প্রথম নন। এর আগেও তিন জন এই কাজ করেছেন। জিমি অ্যাডামস ও মনসুর আখতার ১ রান করে দিয়েছেন। আর বাংলাদেশের বিপক্ষেই কলিন্স ওবুইয়া ২০০৬ সালে নাইরোবিতে ৫ রান দিয়েছিলেন: তার নো বলে চার মেরে দলকে জিতিয়ে দিয়েছিলেন মাশরাফি। তবে এই প্রথম কোনো বোলার টানা তিনটি কোমরের বেশী উচ্চতার বল, যার দুটিই বীমার, দিয়ে নিষিদ্ধ হলেন।
বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তানের দুই ওপেনারই ফিফটি-প্লাস করেছেন। এই নিয়ে ওয়ানডে ইতিহাসে মাত্র দশ বার চার ওপেনারই পঞ্চাশের ওপর স্কোর করলেন।
সবমিলিয়ে ম্যাচে আটটি ফিফটি-প্লাস স্কোর হয়েছে। এমন ঘটনা ওয়ানডে ক্রিকেটে এই নিয়ে মাত্র তিনবার ঘটল।
১০ ওভারে ৬১ রান দিয়েছেন সাঈদ আজমল; উপমহাদেশে এটাই তার সবচেয়ে খরুচে বোলিং। মজার ব্যাপার হল এর মধ্যে প্রথম ৬ ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ৯ রান। আর শেষ ১০ ওভারের মধ্যে বল করতে এসে নিজের শেষ চার ওভারে খরচ করেছেন ৫২ রান!
