সিলেটে আপার সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৯
সিলেটের আপার সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পটি দীর্ঘ এক যুগেও শেষ হচ্ছে না। বার বার প্রকল্পটি সংশোধিত হওয়ায় সময় ক্ষেপণ হচ্ছে এবং প্রকল্প ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ সংশ্লিষ্ট ছয় উপজেলার ১২ লক্ষ কৃষক নানাভাবে উপকৃত হবে। এছাড়া বার্ষিক বর্ধিত কৃষি উত্পাদন হবে ৮৬ হাজার ৮২৬ মেঃ টন। কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পে সময়মত অর্থ বরাদ্দসহ গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কাজের গতি পিছিয়ে পড়ে। জকিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, কানাইঘাট, সিলেট সদর বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ এই পাঁচ উপজেলার কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে মোট ৫৩ হাজার ৮২০ হেক্টর ও নীট চাষ যোগ্য ৩৫ হাজার ৬ শ’ হেক্টর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং ১০ হাজার ৬ শ’ হেক্টর এলাকাকে সেচ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০২ সালের জানুয়ারিতে একনেকের সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। ২০০১-২০০২ অর্থবছরে গৃহিত প্রকল্পটি ২০০৫-০৬ অর্থবছরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তখন এর ব্যয় ধরা হয় একশ’ ১১ কোটি টাকা। ২০০৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এ প্রকল্পর উদ্বোধন করা হয়। শুরুতেই অর্থায়নে ধীর গতি ছিল। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রকল্পের কাজের গতিতে আরো ভাটা পড়ে। এর পর স্বাভাবিকভাবে এর ব্যয় বাড়ে। সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় একশ’ ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু এর পরও প্রকল্পটি নির্ধারিত সময় বাস্তবায়িত হয়নি। নানা টানাপোড়েন লেগেই থাকে। আবারো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০১৩-২০১৪ অর্থবছর পর্যন্ত। কিন্তু এবারও সময়মত টাকা না পাওয়া এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবারো চিঠি লিখেছে। এদিকে নিষ্কাশন সমস্যা ও কৃষি অব্যবস্থাপনা লেগে থাকায় সংশ্লিষ্ট পাঁচ উপজেলার কয়েক লাখ কৃষক আজও সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ‘‘প্রকল্পটি বাস্তিবায়িত হলে কৃষিক্ষেত্রে সিলেটে বড় একটি কাজ হবে,’’ মন্তব্য করে পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন ,‘‘তখন এখানকার জমি সারাবছর বহুমুখী সবুজ ফসলে ভরা থাকবে।’’ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে সুরমা নদীর বাম তীর এবং কুশিয়ারা নদীর ডান তীরের ১৫৫ কিঃমিঃ বাঁঁ পুনঃনির্মাণ, ২০ কিঃমিঃ নতুন বাঁধ নির্মাণ। ৫৬ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, একশ’ ৭৩ কিঃমিঃ সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ৫টি পানি নিষ্কাশন স্লুইস, দুটি ব্রিজ, একটি পাম্প স্টেশন এবং ৮১২টি সেচ কাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এ পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৭৩ দশমিক ৯৫ ভাগ।