উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা ঠেকাতে এবার বেশ তত্পর হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিজস্ব কর্মকর্তা ও বিভিন্ন উেসর মাধ্যমে আগামী তিন ধাপের নির্বাচনে গোপন নজরদারি শুরু করতে যাচ্ছে কমিশন। নির্বাচনের আগের দিন ও ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবির টহলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সহিংসতাকারীদের শনাক্তের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এছাড়া নির্বাচনী কর্মকর্তারা দায়িত্বে অবহেলা করলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করবে কমিশন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন, সহিংসতা কমানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হবে। যারা এসব কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবাইকে তত্পর থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হলেও দ্বিতীয় ধাপে ব্যাপক সহিংসতা হয়। কিছুটা রুদ্ধ হয় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পথ। এজন্য আগামী ১৫ মার্চ তৃতীয় ধাপের ৮৩টি উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে কমিশন। ২৩ মার্চ চতুর্থ ধাপ ও ৩১ মার্চ পঞ্চম ধাপেও নানা কৌশল অবলম্বন করা হবে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে যারা সহিংসতা করতে পারে তাদের উপর আগেভাগে নজরদারি করা, নির্বাচনের আগেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি অভিযান, ভোট কেন্দ্রে গোলযোগ দেখা দিলেই ভোট বন্ধ, প্রতিটি প্রিজাইডিং অফিসারকে ম্যানুয়ালের ২২টি নির্দেশনা ভালোভাবে অনুসরণ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবিকে প্রতি কেন্দ্রে টহল জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কমিশনের ১৮ কর্মকর্তাকে জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বন্টনের পাশাপাশি গোপনে নজরদারির নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে জাতীয় নিবন্ধন অণুবিভাগের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে মনিটরিং সেলকে আরো কার্যকর করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। গোপনে পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় থাকবেন এ কর্মকর্তরা। গোপন পর্যবেক্ষক কোন ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন না। তবে তিনি ভোট কেন্দ্রের বাইরে থেকে ভোটার ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে নিশ্চিত হয়ে তা কমিশনকে অবগত করবেন। প্রয়োজন হলে তিনি গোলযোগ বা সহিংসতার স্থির বা ভিডিও চিত্র ধারণ করে কমিশনকে পাঠাবেন। তাদের তাত্ক্ষণিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ইসি। এবার বিশেষ ভাবে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, রিটার্নিং অফিসার (এডিসি জেনারেল), সহকারী রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কর্মকাণ্ডের উপরও নজর রাখা হচ্ছে। নির্বাচনে তারা কোন পক্ষ নিলে বা দায়িত্ব অবহেলা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কমিশন।
উদাহরণ হিসাবে কমিশনের কর্মকর্তারা ইত্তেফাককে বলছেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ২০১৩-এর ৮৮(ক) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই নোয়াখালী সদর উপজেলার নির্বাচন ঢাকা থেকে স্থগিত করে কমিশন। এবার এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে তাত্ক্ষণিকভাবে নির্বাচন স্থগিত করা হবে। ভোট কেন্দ্রে গোলযোগ হলে প্রিজাইডিং অফিসারের ভোট বন্ধ রাখার ক্ষমতা থাকার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও কেন তারা তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদানে কোন নির্বাচনী কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা থাকলেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কমিশন।
এ বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার ইত্তেফাককে বলেন, সহিংসতা যে করবে তার কোন ছাড় নেই। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগামীতে আরো কঠোর হতে বলা হয়েছে। তারপরও সহিংসতা বা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্টের কোন খবর পেলে ঢাকা থেকেই তাত্ক্ষণিকভাবে নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হবে। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে দায়িত্ব অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে।
