রুশ-ইউক্রেন আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:১১
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইউক্রেনের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। ইউক্রেনের সংকট নিয়ে গতকাল বুধবার প্যারিসে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের সময় কেরি এই আহবান জানান। ইউক্রেনের সংকট শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে এটাই ছিল সর্বোচ্চ কূটনৈতিক যোগাযোগ। খবর বিবিসি, এএফপি ও সিএনএন’র। এদিকে ক্রিমিয়ায় রুশ বাহিনী দুটি ইউক্রেনিয়ান মিসাইল সাইটের আংশিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়া দাবি করছে এসব বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। রাশিয়া এদের স্থানীয় মিলিশিয়া বাহিনী বলে দাবি করছে। এর আগে জার্মানীর চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের সাথে টেলিফোনে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ইউক্রেনের পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু প্রস্তাব করেছেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, রাশিয়া যদি মনে করে জাতিগত রুশদের ওপর কোন হুমকি তৈরি হয়েছে, তাহলে ইউক্রেনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু ক্রিমিয়া থেকে রুশ সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে। প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে টেলিফোনেও একইরকম প্রস্তাব দেন ওবামা। কিন্তু এ ধরণের প্রস্তাবকে রাশিয়া যে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে তা মনে হচ্ছেনা । মাদ্রিদে এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলছিলেন ইউক্রেনে কোন পর্যবেক্ষক যাবে কি না যাবে তা ইউক্রেনের বিষয়। এ সিদ্ধান্ত রাশিয়া নিতে পারেনা কারণ ইউক্রেন রাশিয়া নয়। সংবাদদাতারা বলছেন, রাশিয়া যেটা এখন চাইছে, কিয়েভে বর্তমান যে সরকার তা থাকতে পারবে না। বদলে একটা জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার গঠন করতে হবে, যেখানে জাতিগত রুশদের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ এবং দেশটির নাগরিকদের সম্পদ জব্দ করলে রাশিয়াও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। ক্রেমলিন সরকার ও তার দেশে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোম্পানির সম্পদ জব্দ করতে পারে। রাশিয়ার পার্লামেন্টে এ ধরনের একটি প্রস্তাব পাস করানোরও চিন্তা করছে সরকার। ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চলে রুশ সৈন্য মোতায়েনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র একে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ক্রেমলিন কঠোর ভাষায় এ দাবি নাকচ করে দেয়। এসব সত্ত্বেও উভয় পক্ষ সংলাপ শুরুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মস্কো এখনও ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের স্বায়ত্ত্বশাসিত ক্রিমিয়া অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতেও এ অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। তবে কোন সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। কোন পক্ষই গুলি ছোঁড়েনি। এখন পর্যন্ত সবাই ‘বাগযুদ্ধে’ লিপ্ত রয়েছে।