নারীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্রিটিশ সহায়তা

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:১৪
উচ্চ মাতৃ মৃত্যু হার, অপুষ্টি, জটিল রোগব্যাধি, সীমিত শিক্ষার সুযোগ, সহিংসতা, নির্যাতন, কুসংস্কার, সামাজিক বাধা- এসব বাস্তবতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের নারী সমাজের অগ্রগতি থেমে নেই। নারী উন্নয়নে সরকারি বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থা। বাংলাদেশের একক বৃহত্ দাতা দেশ যুক্তরাজ্য নারী শিক্ষা, দারিদ্র্য হ্রাস, প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ, ক্ষুদ্রঋণ, বাল্য বিবাহ হ্রাস, সমতা প্রতিষ্ঠা, সহিংসতা দমনে সচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টি নিশ্চিত করা, বৈষম্য দূর করতে বিভিন্ন কর্মসূচি ভিত্তিক কাজ করে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা- ডিএফআইডি বিভিন্ন স্তরে গৃহীত কর্মসূচির ফলে ১৫ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের বৃত্ত থেকে বের করে আনা হয়, এদেশের অর্ধেকেরও বেশি নারী। এক হিসেবে দেখা যায়, এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ অতিরিক্ত শিশু প্রাথমিক শিক্ষার স্তর পার করেছে। এদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ মেয়ে। ২৭ লাখ মেয়ে স্বাস্থ্য তথ্য জ্ঞান লাভ করেছে। স্যানিটেশনের সুবিধা পেয়েছে ১৪ লাখ মহিলা, লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার শিকার ৪৭ হাজার নারী স্বাস্থ্য ও আইনগত সুবিধা পেয়েছে। ত্রিশ লাখ নারী ও মেয়েকে নিরাপত্তা ও বিচার সুবিধা দেয়া হয়। তৈরি পোশাক ও নির্মাণ খাতে নিয়োজিত ৬০ হাজার নারীকে দক্ষতা জ্ঞান দেয়া হয় যাতে তারা উন্নত আয়ের সুযোগ পায়। লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা কমাতে বিভিন্ন থানায় ছয়টি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ডিএফআইডি ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। এছাড়া প্রায় সাড়ে সাত লাখ মহিলাকে জীবন মানের উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। ৪৪ হাজার মহিলাকে কৃষি উত্পাদনের জন্য জমির ব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশের নারী সমাজের কাছে একটি বড় ধরনের বিপর্যয় হলো বাল্য বিবাহ প্রথা। ১৮ বছরের নীচে ৬৬ শতাংশ মেয়ের বিয়ে দেয়া হয়। নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই হার হ্রাস পেয়েছে। ডিএফআইডির একজন কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক বছরের নারী খাতে আর্থিক সহায়তার অনেক ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এই অবস্থায় আগামীতে আরো সম্প্রসারিত উপায়ে উল্লিখিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।