রোবট নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। সায়েন্স ফিকশনগুলোর বদৌলতে নানা ধরনের কাজে রোবটের ব্যবহারের সাথে মানুষ অনেকটাই পরিচিত হয়ে উঠেছে। এসব চলচ্চিত্রে মানুষের মতোই এবং কখনও কখনও মানুষের চাইতেও অনেক বেশি বুদ্ধিমান হিসেবে হাজির হয়েছে। বাস্তবেও রোবটের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সঞ্চারের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা। কিছু কিছু রোবটের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সঞ্চারের কাছে সাফল্যও মিলেছে। যে কারণে কিছু কিছু রোবটকে বুদ্ধিবৃত্তিক অনেক কাজে সফলতার সাথে কাজ করতে দেখা গেছে। কিন্তু বুদ্ধিমত্তায় মানুষকে অতিক্রম করার মতো কোনো রোবটের দেখা এখনও মেলেনি। কিন্তু সেই কাজটিই করে দেখাতে যাচ্ছেন জাপানের রোবট বিজ্ঞানীরা। জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানোর মতো বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন একটি রোবট তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিক্সের গবেষক নোরিকো আরাইয়ের নেতৃত্বে এমনই একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর আগে গত বছরে জাপানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার অনুরূপ একটি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করলেও তা ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে ব্যর্থ হয়। তবে নোরিকো আরাই আশা করছেন, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তাদের তৈরি রোবট সফলভাবেই উত্তীর্ণ হবে এবং ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের চাইতেও ভালো করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কত দ্রুততার সাথে মানুষের মস্তিষ্কের সাথে পাল্লা দিতে পারে, সেটি পরিমাপের অংশ হিসেবেই এই রোবট তৈরির প্রকল্পটি যাত্রা শুরু করে। এই প্রকল্পের নামই দেওয়া হয়েছে ‘ক্যান আ রোবট গেট ইনটু দ্য ইউনিভার্সিটি অব টোকিও?’, সংক্ষেপে যাকে বলা হচ্ছে ‘টোডাই রোবট’ প্রকল্প। নোরিকো বলেন, ‘রোবটরা মানুষের মতো যথেষ্ট পরিমাণ বুদ্ধিমান হয়ে উঠলে আমাদের সামনের দিনের পরিকল্পনাগুলোকে নতুন করে সাজিয়ে নিতে হবে। নইলে শিক্ষা, অর্থনীতি, শ্রম বা সমাজকল্যাণের কোনো বিষয়েই সঠিকভাবে অগ্রগতি আশা করা যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও অগ্রগতির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সময় এখনই।’ জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং অন্যান্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করে এগিয়ে যাচ্ছে নোরিকো আরাইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রকল্প।
