সম্ভাবনা জাগিয়েও বারবার থেমে যাচ্ছে তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি। আর এই চুক্তি বাস্তবায়নে যত দেরি হচ্ছে ততই হাহাকার বাড়ছে তিস্তা পাড়ের লাখো মানুষের। পানির অভাবে তিস্তা পাড়ের জমিগুলো ধুধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। চিন্তিত কৃষক মাথায় হাত দিয়ে চোখে ‘সর্ষে ফুল’ দেখছে। অন্যদিকে বিপন্ন হচ্ছে সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ। নষ্ট হচ্ছে স্বাভাবিক জীব-বৈচিত্র্য।
জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার গজলডোবা বাঁধ দিয়ে ভারত একটি খালের সাহায্যে তিস্তার শুকনো মৌসুমের প্রবাহ থেকে ১ হাজার ৫শ’ কিউসেক পানি মহানন্দা নদীতে নিয়ে যাচ্ছে। মহানন্দায় ব্যারেজ নির্মাণ করে ১০টি লক গেটের মাধ্যমে পানি আটকানো হচ্ছে। তিস্তা-মহানন্দা সংযোগ খাল থেকে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, পশ্চিম দিনাজপুর, কোচবিহার ও মালদহ জেলার কৃষি জমিতে সেচের পানি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ কারণে শুকনো মৌসুমে তিস্তার পানি প্রবাহ আশংকাজনকভাবে কমে গেছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, ওপারে পানি প্রত্যাহার করায় বাংলাদেশের তিস্তা বাঁধ প্রকল্প প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে তিস্তার পানির প্রবাহ অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে। এই জনপদে শুরু হয়েছে মরুকরণ প্রক্রিয়া। তারা জানান, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখতে যেখানে প্রয়োজন ১০ হাজার কিউসেক পানি, সেখানে শুধু ব্যারেজ এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪শ’ ৫০ থেকে ২ হাজার ৭শ’ কিউসেক পানি।
নদী পাড়ের মানুষেরা জানান, নদী শুকিয়ে যাওয়ায় মত্সজীবীরা তাদের বাপ-দাদার পুরনো পেশা ছেড়ে শহরে গিয়ে হয়ে পড়েছে ছিন্নমূল। ছোট ছোট খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে অচল হয়ে পড়েছে। নৌকাগুলো তুলে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে রঙ্গিন পালের নৌকাগুলো। অন্যদিকে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় একটু বর্ষা হলেই দু’কুল ছাপিয়ে ফুঁসে ওঠছে তিস্তা। এভাবে বার বার ভাঙ্গনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। এই জনপদকে বাঁচাতে অতিদ্রুত তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়নসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে তিস্তায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ভূগর্ভের গভীর থেকে স্যালো ও গভীর নলকুপ দিয়ে ব্যাপক পানি উত্তোলন করায় মাটির স্তরের মধ্যবর্তী শূন্য স্থানে বাতাস প্রবেশ করছে। এ অক্সিজেন লৌহ ও আর্সেনিক যৌগের সঙ্গে বিক্রিয়ার ফলে মুক্ত আর্সেনিকের সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
