আগামী ১৫ মার্চ গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি-আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রার্থী হয়েছেন। বিদ্রোহীদের কাছ থেকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপি-আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। বড় দুই দল বিএনপি-আওয়ামী লীগের সমর্থিত এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে উপজেলার হাট-বাজার, চায়ের দোকান, মাঠ-ঘাট।
এ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জনসহ ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনটি পদেই হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের তত্পরতায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা সত্ত্বেও তারা দমে যাননি বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান (মোটর সাইকেল প্রতীক) এর বিদ্রোহীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান (ঘোড়া)। অন্যদিকে ১৯ দলীয় জোট তথা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইসাহাক আলীর (দোয়াত-কলম) বিদ্রোহীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বিএনপি নেতা হযরত আলী (কাপ-পিরিচ)। এছাড়া গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক (আনারস) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দীন বিশ্বাস (ফেজ-টুপি) মাঠে রয়েছেন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীরা প্রতিপক্ষের পরিবর্তে দলীয় বিদ্রোহীদের মোকাবেলায় হিমসীম খাচ্ছে বলে ভোটাররা জানিয়েছেন। এছাড়া নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত হোসনে আরা আক্তার (কলস), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সুফিয়া খাতুন মিলি (হাঁস), বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রওশন আরা ডলি (প্রজাপতি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (বৈদ্যুতিক পাখা); পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী খাইরুল ইসলাম (চশমা) ও ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক কামারুজ্জামান (তালা) ও জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থী মাহাফিজুর রহমান সুমন (মাইক) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাদের অভিযোগ, সত্ ও যোগ্য প্রার্থী সমর্থনে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তৃণমূলের নেতাদের মতামত না নিয়েই পছন্দের ব্যক্তি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আসাদুজ্জামানকে প্রার্থী ঘোষণা করেন। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
