আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দলে পাঁচ পরিবর্তনের পর গতকাল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতার শেষ খেলাতেও তা অব্যাহত রাখলো। কাল দলে পরিবর্তন ছিল তিনটি। এর মধ্যে সবচাইতে আলোচিত হলো স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকের পরিবর্তনটি।
রাজ্জাক বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের সেরা ফর্মে নেই। চলতি এশিয়া কাপে তার মনোভঙ্গি নিয়েও জোরালো প্রশ্ন উঠেছিল। দৃশ্যত তারই জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে দল থেকে বাদ পড়লেন অভিজ্ঞ এই স্পিনার। তার জায়গায় সুযোগ পেলেন আরাফাত সানি। একই সাথে বাদ পড়েছেন পেসার শফিউল ইসলাম ও ইমরুল কায়েস।
সর্বশেষ সাত মাচে নয় উইকেট পাওয়া রুবেল হোসেনের ইনজুরির কারণে গত ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ দেয়া হয়েছিল আরেক পেসার শফিউল ইসলামকে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাজটা সহজ হয়ে যায় টিম ম্যানেজমেন্টের। ইনজুরি কাটিয়ে শফিউলের জায়গায় একাদশে খেলে ফেললেন রুবেল হোসেন।
ইমরুল কায়েসের বাদ পড়াটাকে দুর্ভাগ্যজনক বলা যেতে পারে। আড়াই বছর পর রঙিন জার্সি পরে খেলার সুযোগ পেয়েই করেছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। কিন্তু সেই চট্টগ্রাম টেস্ট থেকে কুঁচকির ইনজুরিতে ভুগতে থাকা ইমরুলের কপাল পুড়লো আরেকবার। তার জায়গায় ওপেনিংয়ে এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গী হয়ে নেমেছিলেন সামসুর রহমান শুভ। অজন্তা মেন্ডিসের বলে আউট হবার আগে এই ব্যাটসম্যান ৫৭ বলে ছয় চারের সাহায্যে করেন ৩৯ রান। আর এক রানের আক্ষেপে পুড়েছেন আরেক ওপেনার বিজয়। সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী এই ব্যাটসম্যান গতকাল হাফ সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে থাকতেই আশান প্রিয়ঞ্জনের বলে আউট হয়ে গেছেন।
বিজয় চার ম্যাচ খেলে এক সেঞ্চুরি ও এক হাফ সেঞ্চুরিসহ ৭৫.৬৬ গড়ে করেছেন ২২৭ রান। পাঁচ জাতির এই টুর্নামেন্টে তার থেকে বেশি রান করতে পেরেছেন কেবল কুমার সাঙ্গাকারা। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। চার ম্যাচে ৬৫.০০ গড়ে তার রান ১৯৫।
টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের মতো এবারও বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিটা বেশ জমে গিয়েছিল। ১৮.২ ওভার পর্যন্ত একসাথে থেকে এই দুই ব্যাটসম্যান যোগ করেন ৭৪ রান। এই জুটি ভাঙার পরই শুরু হয় বাংলাদেশ ব্যাটিং লাইন আপের ছন্দপতন।
পরিবর্তন ছিল শ্রীলঙ্কার একাদশেও। টানা তিন ম্যাচ জিতে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করে লঙ্কানদের জন্য তাই ম্যাচটা ছিল সে ফ নিয়ম রক্ষা করা। আর সেই ‘অর্থহীন’ লড়াইয়ে গতকাল তারা একাদশে আনে দুটি পরিবর্তন। অনেকদিন ধরেই রানের মধ্যে না থাকা ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমালের জায়গায় সুযোগ পেয়েছিলেন আশান প্রিয়ঞ্জন। লাসিথ মালিঙ্গাকে বিশ্রাম দেয়া হয়। তার বদলে খেলেন সচিত্র সেনানায়েকে। সব মিলিয়ে তিন স্পিনার নিয়ে খেলতে নামে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দল।
