তারকা প্রার্থী নিয়ে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসে ‘গৃহদাহ’

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৪, ২২:৪১
আগামী ৭ এািপ্রল অনুষ্ঠিতব্য ভারতের লোকসভা নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যনার্জির তৃণমূল কংগ্রেস সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অঙ্গনের একগাদা তারকাকে মনোনয়ন দেয়ায় দলে তীব্র আভ্যন্তরীন কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ। মনোনয়ন বঞ্চিত প্রকৃত দলীয় কর্মীরা বলছেন -সারা বছর দলের জন্য খাটব আমরা, আর ভোটে লড়ার সময় সিনেমার নায়ক নায়িকা কিংবা খেলোয়াড়রা! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও জেলা সভাপতি এবার মনোনয়ন পাননি। ফলে তারা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবে কি না তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে সংশয়। খবর জি নিউজের। সূত্র জানায়, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় সেলিব্রিটির ছড়াছড়ি। তালিকায় রয়েছেন ফিল্মস্টার থেকে ফুটবলার, শিক্ষাবিদ সকলেই। তৃণমূলের দাবি, নাগরিক সমাজের কাছে ‘সাম্যের বার্তা’ পৌছে দিতেই মমতা ব্যানার্জি তারকাদের কাছে টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যায় খুশি হতে পারছেন না দলের জন্য সারা বছর পরিশ্রম করা কর্মীরা। তারা বলছেন, নায়ক নায়িকা কিংবা খেলোয়াড়রা তাদের নিজস্ব অঙ্গন বেছে নিয়েছেন। সাধারণ মানুষ তাদের তারকা হিসেবেই পছন্দ করে। তাদের কাছ থেকে দেখার জন্য সাধারন মানুষের আগ্রহ আছে। সেই সুযোগে তাদের ভোটে দাঁড় করিয়ে দেয়ার রাজনীতি মঙ্গলজনক নয়। বীরভূমে জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের প্রশংসা করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি নিজেই। কিন্তু, মমতা ফের প্রার্থী করলেন অভিনেত্রী শতাব্দী রায়কে। অথচ শতাব্দীকে নিয়ে দলে বিতর্ক কম হয়নি। মালদহ উত্তরে প্রার্থী স্থির করা নিয়ে সাবিত্রী মিত্র ও কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর তীব্র টানাপোড়েন ছিল। তাই, কাউকেই খুশি করলেন না মুখ্যমন্ত্রী। প্রার্থী হয়েছেন গায়ক সৌমিত্র রায়। ঘাটাল ও মেদিনীপুর কেন্দ্র প্রার্থী বাছাই নিয়ে প্রতিযোগিতা ছিল মুকুল এবং শুভেন্দুর অনুগামীদের মধ্যে। অথচ ওই দুই আসনে মমতা প্রার্থী করেছেন হালের সুপারস্টার দেব ও বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়কে। এভাবে অনেক আসনে তৃণমূল কংগ্রেসে শক্তিশালী প্রার্থীদের হতাশ করেছেন দলীয় নেত্রী। অনেক শীর্ষ নেতা মনোনয়ন নিশ্চিত ভেবেও তালিকা ঘোষণা করার পর দেখা গেছে তার ‘মুখের গ্রাস’ কেড়ে নিয়েছেন কোনো নায়ক-নায়িকা কিংবা গায়িকা! মমতার এই তারকাপ্রীতি পশ্চিমবঙ্গে অন্যতম এক আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। কারণ এসব তারকারা নির্বাচিত হবার পর সাধারণত তাদের নিজের পেশাতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নির্বাচনী এলাকায় সময় দিতে পারেন না। তবে এবার মমতা আশা করছেন, নির্বাচিত হলে এসব সেলিব্রিটি জনসেবাতেই মনোনিবেশ করবেন।