ওরা ভিডিও জার্নালিস্ট

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৪, ১৯:১৪
এদেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী বা ফটোগ্রাফার সাইদা খানম ১৯৪৯ সালে যখন ক্যামেরা নিয়ে নিয়ে ছবি তোলা শুরু করেন, তখন সবাই এটাকে পুরুষের কাজ বলে জানতেন। যখন পুরোদস্তুর ফটোগ্রাফার তিনি, তখনও অনেকে ভাবতে পারেননি মেয়ে ফটোগ্রাফার হতে পারে। তবে তিনি ভেবেছিলেন ইচ্ছা আর একাগ্রতা থাকলে নারী পারে। আজ প্রেসক্লাব, রিপোটার্স ইউনিটি, সিরডাপ মিলনায়তনসহ নানা অনুষ্ঠানে অনেক নারী ফটো সাংবাদিকদের দেখা যায়। তাদের কারো হাতে মুভি ক্যমেরা, কারো হাতে স্টিল। ব্যতিক্রমী পেশায় নারীকে দেখে আজও যারা চোখ কপালে তোলেন, আলো-আঁধারির খেলায় কয়েকজন তরুণী তাদের বিস্মিত করে মুভি ক্যামেরা হাতে নিয়ে সর্দপে কাজ করে চলেছেন টিভি চ্যানেলে। তাদের নিয়ে আমাদের এই প্রতিবেদন লিখেছেন রাবেয়া বেবী অনামিকা পাল অনামিকা নোয়াখালির মেয়ে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন নোয়াখালি সদরে। ঢাকায় এসে যখন তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ভর্তি হতে যান, তখন শুধু ফ্লিম ডিরেকশন ও ভিডিওগ্রাফিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ ছিল। সে সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি, ভর্তি হয়ে যান ভিডিওগ্রাফিতে। এ বিষয় ভর্তিতে পরিবারের পূর্ণ সর্মথন পেয়েছেন তিনি। অনামিকা বলেন, বাবাসহ পরিবারের সকলে আমাকে শুধু এ বিষয় পড়ার অনুমতিই দেননি, সাথে সাথে সর্মথন করেছেন একজন চিত্র সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্তকে। আমি তাদের কাছে আসলে কৃতজ্ঞ। তারা যে বিশ্বাস করেছেন একজন ছেলে যে ভাবে ভারী একটি ক্যামেরা নিয়ে কায়িক শ্রম করে কাজ করে, আমিও সেভাবে পারব। আমার মনে হয় পরিবারকে ভাবতে হবে মেয়েরা পারে, পারবে। অনামিকা ভিডিওগ্রাফিতে স্নাতক করেছেন তারপর ডকুমেন্ট্রি তৈরি করেছেন। সময় টিভিতে যোগ দিয়েছেন ২০১১ সালে। প্রথম দিন ক্যামেরা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটু অন্যরকম বোধ কাজ করছিল, সবাই আমার দিকে উত্সুক হয়ে তাকাচ্ছিলেন। তবে প্রথম দিন থেকে আজ অবধি কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা হয়নি। বর্তমানে তিনি যমুনা টিভিতে আছেন। নূসরাত নাহার নাজনীন নূসারতের বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা। বাবার কাজের জন্যই তাদের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ানো। তাই তার পড়াশোনাটাও হয়েছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে নূসরাত ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিষয়ে স্নাতক সম্মান সম্পন্ন করেন। বাবার ইচ্ছাতেই তার এ বিষয়ে পড়া। নূসরাত বলেন, বাবাই আমার মধ্যে এ বিষয় পড়ার আগ্রহ তৈরি করেছেন। আমিও বিষয়টি খুব উপভোগ করেছি। নতুন বিষয়ে আগ্রহ আমার বরাবরই। এটিএন নিউজে আমি প্রথম কাজ শুরু করি। ইউনিভার্সিটিতে ৪ বছরের সম্মান শেষে এক বছরের একটি বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান অর্জনের শিক্ষাব্যবস্থা ছিল। ডিরেকশনের উপর আমি সে শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে দেখি, ভিডিওগ্রাফি জ্ঞান ছাড়া ডিরেকশনের উপর বিশেষ জ্ঞান পূর্ণ হয় না। তাই ভিডিওগ্রাফির উপরও এক বছরের বিশেষ জ্ঞান আহরণ করি। সে থেকেই তিনি ক্যামেরা দিয়ে নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে চান। নূসরাত বলেন, কবি, সাহিত্যিক সাংবাদিক যে কাজ করেন কলম দিয়ে আমি সে কাজ করি ক্যামেরা দিয়ে। তিনি মনে করেন সব কাজেই চ্যালেঞ্জ আছে। একজন মানুষই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবে, তাই মেয়েরাও করবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে করছেও তারা। রোকশানা ইসলাম রোকশানার শুরুটা হস্তশিল্প কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। তারপর পেইন্টিং, এরপর ফটোগ্রাফি। তবে ফটোগ্রাফির মায়াজাল থেকে আর বেরিয়ে আসা সম্ভব হলো না তার। পাঠশালা থেকে ফটোগ্রাফির ওপর ডিপ্লোমা করেন তিনি। ফ্রিলেন্স ফটোগ্রাফার হয়ে কাজ করেন বেশ কিছু দিন। সময় টিভিতে যোগ দেওয়ার পরই তাদের ৭ দিনের একটা কোর্স করতে হয়। তার কাজটা স্টুডিও কেন্দ্রিক। যখন কোনো নিউজ অন ইয়ার হয়, রোকশানার দায়িত্ব থাকে ক্যামেরায়। তার মানে ভেতর আর বাইরে কোথাও নারীর পদচারণা থেকে মুক্ত নয়। কাজ করার ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা পেয়েছেন রোকশানা। কাজ নিয়ে কোনো স্মরণীয় ঘটনা জানতে চাইলে রোকশানা বলেন, একবার ২১শে ফেব্রুয়ারির দিন শহীদ মিনারে ছবি তুলতে গিয়ে আর পারছিলাম না। তখন সব ছেলেরা বাঁধা বাঁশের উপর উঠে কাজ করছিল। আমিও সেই চেষ্টাই করলাম, একজন আমাকে বললেন, আপা মেয়ে মানুষ হয়ে এখানে উঠে কাজ করতে পারবেন না, পড়ে যাবেন। আমি তাকে বললাম, একথা না বলে আমাকে একটু ধরে সহযোগিতা করেন। উনি করলেন আমিও কাজ সম্পন্ন করে ফিরলাম। আমাদের সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রোকশানা বলেন, দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে এবং বদলাবে।