মিল্কিওয়ে

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৪, ১৯:১৮
চাঁদহীন অন্ধকার রাতে মেঘমুক্ত আকাশের দিকে তাকালে অসংখ্য তারার এক মনোমুগ্ধকর সমাহার দেখা যায়। শহরের আকাশে ধুলাবালির পুরু স্তর থাকায় গ্রামে অথবা মফঃস্বলে গেলে ব্যাপারটা ভালো করে বোঝা যায়। এ রকম অন্ধকার রাতের তারাখচিত আকাশে লক্ষ করলে দেখা যাবে আকাশের মধ্য দিয়ে এক দিগন্ত থেকে আরেক দিগন্তে আলোর এক সরু অস্পষ্ট কুয়াশার মতো ধারা চলে গেছে। এটিই হলো মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ। এই ছায়াপথটির আবার কতগুলো সুন্দর নাম আছে। যেমন—সুর গঙ্গা বা স্বর্গ গঙ্গা। যে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে বাস করছি তার ব্যাস ৯০০০০ আলোকবর্ষ (আলো এক বত্সরে যে পরিমাণ পথ চলে তাকে আলোকবর্ষ বলে)। আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩০০০০০ কিমি। বুঝতেই পারছেন কতটা বিশাল এই ছায়াপথ। আর এর কেন্দ্র থেকে আমাদের সূর্যের দূরত্ব ৮.৫ কিলোপারসেকেন্ড (৩.২৬ আলোকবর্ষ=১ পারসেকেন্ড ১০০০ পারসেকেন্ড=১ কিলোপারসেকেন্ড)। ছায়াপথটি এসবি শ্রেণীর। এটিতে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় ১০০বিলিয়ন। এর মোট দৃশ্যমান বস্তুর ভর প্রায় ২০০০০০০০০০০০ সৌরভরের সমান। যার মধ্যে ৮৭-৯০% হাইড্রোজেন ১০% হিলিয়াম, ০-৩% ভারি মৌল। ছায়াপথটির আকার সর্পিল। মোটামুটি এই হলো আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ। ছায়াপথ কয়েকটি আকার আকৃতির হতে পারে। তার মধ্যে উপবৃত্তাকার, সর্পিল, কুণ্ডলাকার অথবা অনিয়মিত। ধরে নেওয়া হয় যে, মহাবিশ্ব সৃষ্টির ২ থেকে ৩ বিলিয়ন বছর পরে বেশির ভাগ ছায়াপথ একই সাথে গঠিত হয়েছিল।