আমরা আসলে এক দুর্ভাগা জাতি। দুর্ভাগা বলছি এজন্য যে, আমাদের দেশে কোনো সূক্ষ্ম বিচার নেই। দুর্বলের প্রতি সবলের অত্যাচার চিরকাল। বিখ্যাত লেখক প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন, ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি কখনও জগতে বড় হতে পারে না।’ কথাটা সত্যি। যিনি নীরবে নিভৃতে মানুষ তৈরির বড় কাজটি করে যান, সেই শিক্ষকের কথা কেউ ভাবেনি। শিক্ষকরা যদি সচ্ছল না হন, তাহলে শিক্ষা দেবেন কীভাবে? কীভাবেই বা জাতির উন্নতি হবে? এসব কথা বলার অর্থ হলো, প্রধানশিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত ও সহকারী শিক্ষকদের বেতনস্কেল এক ধাপ উন্নীত করার ঘোষণা আসছে। এতে প্রায় ৬০ হাজার প্রধানশিক্ষক খুশি হবেন। কিন্তু খুশি হতে পারবেন না প্রায় চার লাখ সহকারী শিক্ষক। কারণ প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বেতনস্কেল চার হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে চার হাজার ৯০০ টাকা হবে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের চার হাজার ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে পাঁচ হাজার ২০০ টাকা হবে। অর্থাত্ মাত্র ২০০/৩০০ টাকা বাড়বে। যেখানে প্রধানশিক্ষকদের মূল বেতন বাড়বে ২৫০০ টাকা। অথচ প্রধানশিক্ষক আর সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বর্তমানে বেতনের পার্থক্য ৩০০ টাকা। এখন কেন এত বিশাল ব্যবধান করা হবে?
সহকারী শিক্ষকরাই মানুষ তৈরির মূল কাজটি করেন আর প্রধানশিক্ষকরা প্রশাসনিক কাজ করেন। সহকারী শিক্ষকরা প্রতিদিন কমপক্ষে ৮টি পিরিয়ড করেন। পাঠটীকা তৈরি ও উপকরণসহ ক্লাসে পাঠদান করেন। অফিসিয়াল কাজে প্রধানশিক্ষকদের সাহায্য করেন। বেশিরভাগ কাজই সহকারী শিক্ষকরা করে থাকেন। কষ্টটা সহকারী শিক্ষকদের বেশি। তাহলে শিক্ষা কার্যক্রম প্রধানশিক্ষক বাস্তবায়ন করেন, না সহকারী শিক্ষক বাস্তবায়ন করেন? প্রধানশিক্ষকের একার পক্ষে কি সম্ভব শিক্ষা বাস্তবায়ন করা? তাই গাছের ওপরে পানি না ঢেলে গোড়ায় আগে পানি ঢালতে হবে। সহকারী শিক্ষকদের অভুক্ত রেখে যত ব্যবস্থা নেওয়া হোক না কেন তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখা উচিত।
ঢাকা
