এক বিস্ময়কর জীবনের গল্প

আপডেট : ২১ মে ২০১৯, ২২:২৭

স্যামুয়েল আব্দুল রহিমকে যেদিন অপহরণ করা হয়েছিল সেদিনের কোন কিছুই তার মনে নেই। সেসময় তার বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কানো শহরে তার নিজের বাড়ি থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরের ছয় বছর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। তার সাথে পরিবারের আর কারো দেখাও হয়নি। পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি তার বিত্তশালী পরিবার থেকেও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো। ছোট ছোট দল গঠন করা হলো তাকে খুঁজতে।  কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হলো। একসময় তার বাবা সব সন্তানদের অনুরোধ করলেন ‘তাদের ভাই মারা গেছে’ এই সত্যটা মেনে নিতে। কিন্তু তার বোন ফিরদৌসি সেটা মেনে নিতে পারছিলেন না।

স্নাতক ডিগ্রি গ্রহণ করার পর কাজের সন্ধানে ফিরদৌসি চলে যান দক্ষিণের লাগোস শহরে। একদিন সেখানকার এক গির্জার বাইরে অপেক্ষা করতে করতে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। কিছু একটার আওয়াজে জেগে উঠলেন তিনি। দেখলেন একজন ভিক্ষুক আল্লাহর নাম করে তার কাছে ভিক্ষা চাইছেন। ফিরদৌসি তখন চোখ তুলে তাকালেন। তিনি দেখলেন ওই ভিক্ষুক এক বালকের কাঁধ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। বালকটির পরনে ছিন্ন বস্ত্র। তাকে দেখেই চিত্কার দিয়ে উঠলেন ফিরদৌসি! মুখ বসে যাওয়া বালকটি আর কেউ নয়— এ যে তারই হারিয়ে যাওয়া ছোট ভাই। ফিরদৌসি তখন আনন্দে চিত্কার দিয়ে মাটিতে পড়ে যান। এভাবে তিনি রীতিমতো অলৌকিকভাবে ভাইকে খুঁজে পান।

স্যামুয়েলের এখন বয়স ৩০ বছর। তাকে তার পরিবার থেকে কিভাবে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সে সম্পর্কে তার কিছুই মনে নেই। তিনি বলেন, আমার শুধু ট্রেনে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারপর একজন মহিলার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার ছিল একটা হাত। ওই এলাকাতে বহু প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক বসবাস করতো। ওই মহিলা স্যামুয়েলকে ভাড়া করেছিল অন্ধ ভিক্ষুকদের ‘গাইড’ হিসেবে। এজন্যে তাকে পারিশ্রমিক দেওয়া হতো পাঁচ ডলার করে। লাগোসে প্রতিবন্ধি সেজে গাড়ির জানালায় টোকা মেরে মেরে ভিক্ষে করা এক শ্রেণীর লোকের পেশা। নিজেদের ‘চলনে অক্ষম’ প্রমাণ করতে আরেকজনের কাঁধে ভর করতে হয়। এজন্য একজনকে ভাঁড়া করতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন ভিক্ষুক এভাবে স্যামুয়েলকে ভাড়া করতো। কেউ ভাড়া করতো এক সপ্তাহের জন্যে আবার কেউ হয়তো এক মাসের জন্যেও। এভাবে তিনি হয়ে পড়েছিলেন ভিক্ষুকদের দাস। স্যামুয়েল এখন নাইজেরিয়ায় এক আলোচিত মুখ।