বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার কথা শুনলো শিশুরা

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৭
ফাল্গুনের সকাল। রক্তঝরা মার্চের সকাল। জায়গাটা বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চ। লাল কার্পেটে বসে আছে একদল শিশু। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী তারা। বটতলায় ছায়ায় এই শিশুরা শুনছে বঙ্গবন্ধুর কথা। মুক্তির কথা। স্বাধীনতার কথা। বৃহস্পতিবার বিশিষ্টজনের মুখে বঙ্গবন্ধুর কথা শোনে শিশুরা। ৭ই মার্চ উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাছত্র। সংগঠনটির আহবায়ক সুভাষ সিংহ রায়ের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন নাট্য ব্যক্তিত্ব আলী যাকের, মুক্তিযোদ্ধা ও সম্মিলিত সংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, অভিনেত্রী শমী কায়সার। আলী যাকের বলেন, একাত্তরে সাড়ে সাত কোটি মানুষের কথা ছিল- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর এই ডাকের পরই মায়ের সম্মান রাখতে জয় বাংলা বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালিরা। তারপর তো ইতিহাস। আমি চাই তোমরাও জয় বাংলাকে আঁকড়ে ধরে সামনে এগিয়ে যাও। আমাদের দেশটাকে ভালোবেসে সামনের দিকে নিয়ে যাও। পাকিস্তানকে সুয়ো দেশ এবং বাংলাদেশকে দুয়ো দেশ উল্লেখ করে আলী যাকের বলেন, এক ছিল দুয়ো দেশ। আরেক ছিল সুয়ো দেশ। সুয়ো দেশ দুয়ো দেশকে পছন্দ করতো না। দুয়ো দেশের মানুষকে প্রাপ্য অধিকার দিতো না। দুয়ো দেশে জন্ম নিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছোট বেলা থেকেই এই বৈষম্য তাকে ভাবাতো। তিনি বড় হলেন। আজকের এই দিনে (৭ মার্চ) তার ভাষণের পর উজ্জীবিত হয় বাঙালিরা। ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে দুয়ো দেশটা স্বাধীন হয়। তিনি বলেন, জানি তোমাদের সবার কাছেই মা প্রিয়। দেশ যদি মা হয় তাকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। বঙ্গবন্ধুও এটা ভাবতেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার দায় আমাদের উপর। নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির মুক্তি চাননি। সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের মুক্তি চেয়েছেন। শমী কায়সার বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিশ্বের সেরা তিন ভাষণের একটি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আমাদের স্বপ্ন দেখায়। আজও আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আজও আমাদের পথ দেখায়।