ইউক্রেনের ক্রিমিয়াতে সেনা প্রেরণ ও রুশ ফেডারেশনের সাথে একীভূত হতে ক্রিমিয়ায় গণভোটের প্রস্তাবে সমর্থন করায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ফোনে ঘন্টাব্যাপী তর্কযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি সরাসরিই পুতিনকে বলেন, আপনি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব লংঘন করেছেন। কুটনৈতিকভাবেই ইউক্রেন সংকট সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইউক্রেন নিয়ে ওবামা-পুতিনের এটা দ্বিতীয় টেলিফোন আলাপ।
জবাবে পুতিন বলেছেন, ক্রিমিয়াতে বসবাসকারী রুশভাষীদের আহ্বান তিনি উপেক্ষা করতে পারেন না। তারাই রুশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তাদের পাশে থাকার জন্য -এমন দাবি করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসের পররাষ্ট্র দফতরের বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি দুই নেতার এই ফোনালাপের খবর জানায়।
ওবামা ক্রিমিয়া থেকে রুশ সেনা সরিয়ে নেবার আহ্বান জানান পুতিনের কাছে। কিন্তু পুতিন ওবামার আহ্বান রাখবেন নাকি উপেক্ষা করবেন সে ব্যাপারে সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, এটি এমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নয় যা মস্কো-ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেনের সরকারের সমর্থন ছাড়াই রাশিয়ার সাথে সংযুক্ত হওয়ার যে প্রস্তাব ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট পাশ করেছে তা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তিনি আরো বলেন, ‘প্রস্তাবটি ইউক্রেনের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনকে লংঘন করে। ইউক্রেনের ভবিষ্যত নিয়ে যে কোন ধরনের আলোচনা বা পরিকল্পনা কিয়েভের বৈধ সরকারকে নিয়েই করা উচিত। ইউক্রেনকে বিভক্ত করার জন্য অতি উত্সাহী হয়ে প্রস্তাব পাশ করেছে ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট।’
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করছে। ওয়াশিংটন বৃহস্পতিবার কয়েকজন রুশ এবং ইউক্রেন নেতার উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অপরদিকে, ইউক্রেনের নতুন অন্তর্বতী প্রধানমন্ত্রী রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে একীভূত হবার ক্রিমিয়ার পার্লামেন্টের প্রস্তাবের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো সভ্য জাতি ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবার আগ্রহ সমর্থন করতে পারে না। রুশ প্রেসিডেন্টকে তার অবস্থান পরিবর্তন করার আহ্বান জানান তিনি।
