প্রবাসী বাবার টাকাই কাল হলো ইমনের

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৪, ২৩:১৭
জেলার বন্দর উপজেলায় খুন হওয়া নবম শ্রেণীর স্কুল ছাত্র রকিবুল ইসলাম ইমনকে (১৪) অপহরণ ও হত্যা মিশনে অংশ নিয়েছিল নিহতের চাচাতো ভাইসহ ৫ জন। এদের সকলেই সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক। দ্রুত প্রচুর টাকার মালিক হওয়ার লোভে প্রবাসী নূরা মিয়ার ছেলে ইমনকে টার্গেট করে অপহরণ করে তারা। কিন্তু অপহরণের পর জীবিত অবস্থায় ছেড়ে দিলে জটিলতা হতে পারে এমন ধারণাতে পরে ইমনকে হত্যা করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে খুনিরা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ারা বেগমের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসকল তথ্য জানায় নিহত ইমনের চাচাতো ভাই কিলিং মিশনে থাকা আলামিন। এর আগে গত বুধবার রাতে অপহরণের ৩৫দিন পর নিজ বাড়ির কয়েক শ’ গজ দূরের একটি ডোবা থেকে ইমনের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই আদালতে আলামিনের অপর দুই বন্ধু শাহজাহান আলী জীবন ও সাইদুর রহমানকে ১০ দিনের রিমান্ড শুনানি শেষে বিচারক তিন দিন করে ফের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। এ তিনজনকেই ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। বন্দর থানা ওসি আকতার মোর্শেদ জানান, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে আলামিন, জীবন ও সাইদুরকে বুধবার রাতেই কামতাল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ইমনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। নিহত রকিবুল ইসলাম ইমন বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের কামতাল মালিভিটা গ্রামের দুবাই প্রবাসী নূরা মিয়ার ছেলে। সে মোগড়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বন্দর থানার এস আই হাকিম জানান, আদালতে আলামিন স্বীকার করেছে যে, তারা কিলিং মিশনে ৫ জন ছিল। আর এই হত্যার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিপণ আদায় করা। দুবাই প্রবাসী বাবা ছেলের জন্য প্রচুর টাকা যোগাড় করতে পারবে সেজন্যই তারা ইমনকে ২৯ জানুয়ারি অপহরণ করে। পরে অটোরিকশায় কিছুক্ষণ ঘুরানোর পর একটি মুরগীর খামারের পাশে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ইমনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে প্রথমে ২ লাখ ও পরে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করে অপহরণকারীরা। এ ঘটনার ৫ দিন পর ইমনের মা ফেরদৌসি বেগম বাদি হয়ে ইমনের চাচা, ফুফাতো বোন, বোনের জামাই ও অপর দুই চাচাতো ভাইকে আসামি করে বন্দর থানায় মামলা করেন। পরে আটক তিনজনের দেয়া তথ্য মতে ইমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আসামিরা গ্রেফতার হওয়ার পর আর কেউ মুক্তিপণ দাবি করেনি। তবে কিলিং মিশনে থাকা অপর দুইজনের নাম তদন্তের স্বার্থে জানাতে রাজি হননি তদন্তকারী কর্মকর্তা।