হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। গতকাল শুক্রবার এ বিক্ষোভ হয়।
বৃহস্পতিবার বিজয়নগর উপজেলার চর ইসলামপুরে নাজিরাবাড়ী মসজিদে হামলা চালিয়ে ৩০ মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষক ও তাবলীগ জামাতের লোক আহত করা হয়। মসজিদে হামলা ও তাবলীগ জামাত সদস্যদের আহত করার খবরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। গভীর রাত পর্যন্ত শহরে থেমে থেমে বিক্ষোভ হয়। রাত ১০টায় আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে আনার পর হূদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। রাতে জেলা প্রশাসক ড. মোঃ মোশাররফ হোসেন সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করে আহতদের খোঁজ নেন। মসজিদে হামলা চালিয়ে আহত করার ঘটনায় পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। চর ইসলামপুরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসা থেকে কয়েক হাজার মুসল্লি শহরের টেংকেরপাড় মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কাউতলী মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন মাওলানা সাজিদুর রহমান, মুফতি মোবারক উল্লাহ, মুফতি এনামুল হাসান, মাওলানা এরশাদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, হযরত মোহাম্মদ (সঃ)কে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির পর উত্তেজনার সূত্রপাত। সম্প্রতি ফেসবুকে হযরত মোহাম্মদ (সঃ)কে নিয়ে একটি উক্তির পর চর ইসলামপুর গ্রামে এক ব্যক্তিকে সর্দার-মাতবররা সালিশে জুতাপেটা ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে কানধরে উঠ-বস করায়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় স্থানীয় মাওলানাদের সাথে পুলিশের বৈঠকে মীমাংসা হয়। বৃহস্পতিবার জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষকের নেতৃত্বে ফের তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম শুরু হয় ইসলামপুরে। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর নাজিরাবাড়ীতে তাবলীগ সদস্যদের উপর হামলা করা হয়।
