আমার হাতে সম্প্রতি একটি প্রচারপত্র এসেছে। এটি বাংলাদেশ থেকে প্রচারিত, না লন্ডনে বাংলাদেশি জঙ্গিদের ঘাঁটি থেকে ম্যানুফেকচার্ড তা আমি জানি না। কারণ, সুমুদ্রিত কাগজটিতে কারো নাম-ঠিকানা নেই। কেবল লেখা হয়েছে, “বাংলাদেশের তওহিদি জনতার পক্ষে”। এই ধরনের প্রচারপত্র, হুমকি দেয়া টেলিফোন কল প্রায়শই পাই। পাত্তা দেই না। কিন্তু বর্তমানে হাতে পাওয়া প্রচারপত্রটির একটি কথা আমাকে বেশকিছু সতর্ক করেছে। তাতে বলা হয়েছে, “হিন্দুুস্থানের গোলাম এবং ইসলামের শত্রু শেখ হাসিনা আবার ইসলামের দুশমন এবং তাগুতি শক্তির সাহায্যে ক্ষমতায় বসিয়াছে। তাহাতে বাংলাদেশের তওহিদি জনগণের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আগামী তিনমাসের মধ্যে তাকে আমরা পৃথিবী হইতে সরাইয়া দিয়া পঁচাত্তরের পুনরাবৃত্তি ঘটাইব। পঁচাত্তরের মতোই আমরা কামিয়াব হইব।”
প্রচারপত্রটি কে বা কারা আমার কাছে পাঠিয়েছেন তা জানি না। এটি বাংলাদেশে প্রচারিত হয়ে থাকলে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের হাতে পড়েছে কিনা তাও জানি না। আমি যেমন প্রচারপত্রটি হাতে পেয়ে “মৌলবাদী জঙ্গিদের রুটিন হুমকি” ভেবে ফেলে দিয়ে এখন ভাবছি, ওটা ফেলে না দিয়ে ওর ভাষাকে গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিলো; তেমনি আমাদের জাতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ওটা পেয়ে অসার হুমকি ভেবে ডাস্টবিনে ফেলে না দিয়ে থাকলে ভালো করেছেন।
প্রচারপত্রটি বাংলাদেশে প্রচারিত হয়ে থাকুক অথবা লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যে হয়ে থাকুক তাতে আমার বিচলিত হওয়ার কারণ এই যে, পঁচাত্তরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের আগে বাংলাদেশে এই ধরনের প্রচারপত্র বিলি হতে দেখেছি। অবশ্য তার ভাষা ছিল ভিন্ন। তাতে বলা হতো, “বাকশালী দুঃশাসন উচ্ছেদ এবং হিন্দুস্থানের গোলামী হইতে বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য শেখ মুজিবকে অবিলম্বে ক্ষমতা হইতে উত্খাত করা প্রয়োজন।”
পরে জানা গেছে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বালুঘাট নামক স্থানে জওয়ানদের প্রতি বৃহস্পতিবার রাত্রে নানা অছিলায় জমায়েত করে তাদের মধ্যে এই ধরনের প্রচারপত্র বিলি করা হতো। বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের অন্যতম কর্নেল ফারুক নিজে মাঝে মাঝে জওয়ানদের এই সমাবেশে যেতেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে তাদের উত্তেজিত করতেন। তখনো এই প্রচারপত্রগুলো বাইরে জনগণের মধ্যে তেমন বিলি করা হয়নি এবং সম্ভবত সরকারি গোয়েন্দা মহলে বা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছেও তেমন গুরুত্ব পায়নি। পরিণতি পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের মর্মান্তিক ট্রাজেডি।
বর্তমানে শেখ হাসিনার প্রাণনাশের এই হুমকি হয়তো মৌলবাদী জঙ্গিদের রুটিন-হুমকি। কিন্তু পঁচাত্তর থেকে শিক্ষা নিয়েই সরকার ও দেশের গণতান্ত্রিক শিবিরের এই ব্যাপারে অসতর্ক ও কমপ্লাসেন্ট থাকা উচিত নয়। যাকে এখন মনে করা হচ্ছে অসার হুমকি, সেটা সুযোগ পেলে, শেখ হাসিনাকে রক্ষার ব্যাপারে অসতর্কতা থাকলে যেকোন সময়ে যে মর্মান্তিক সত্য হয়ে উঠতে পারে সে কথাটি সকলের স্মরণ রাখা উচিত।
পঁচাত্তরের অভিজ্ঞতা আমাকে বর্তমানেও শঙ্কিত করে। ওই বছর জুন মাসে আমি অসুস্থ স্ত্রীকে লন্ডনে হাসপাতালে রেখে মাসখানেকের জন্য ঢাকায় গিয়েছিলাম। গিয়ে শুনি শহরে সরকারের পক্ষ-বিপক্ষ অনেক সার্কেলেই একটা কথা ঘুরছে, দেশে রক্তপাত আসন্ন। মতিঝিলে জনতা ব্যাংকে সাংবাদিক খায়রুল কবিরের সঙ্গে (তিনি তখন ওই ব্যাংকের কর্মকর্তা) দেখা করতে গিয়েছিলাম। সেখানে জাসদের সঙ্গে তখন যুক্ত অর্থনীতিবিদ ড. আখলাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত্। তিনি আমাকে দেখেই বললেন, তুমি লন্ডন থেকে এই সময় ঢাকায় এসেছো কেন? ভয়াবহ রক্তপাত হবে দেশে। বুঝতে পারছো না?
আমি তার কথা শুনে অবাক। রাতে আওয়ামী লীগের সদ্য পদত্যাগী মন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর বাসায় গেছি। দেখি সেখানে আড্ডায় দু’জন মন্ত্রীও আছেন। একজন দীর্ঘকায় কৃশদেহী জ্যোতিষীও আছেন সেখানে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, এই আগস্টেই (৭৫) বাংলাদেশে রক্তপাত হবে এবং সরকার পরিবর্তন ঘটবে। ভাবসাব দেখে মনে হলো, উপস্থিত দু’জন মন্ত্রীও এই ভবিষ্যদ্বাণী শুনে উত্সাহ বোধ করছেন। বুঝতে বাকি রইলো না বঙ্গবন্ধু সরকারের পেটের ভেতরেই ‘ট্রয়ের ঘোড়া’ অনুপ্রবেশ করেছে।
এখন যেমন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজীনা সাহেব চারদিকে ঘুর ঘুর করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, নরম গরম নানা রকম কথা বলছেন। তখনো তত্কালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বোস্টার সাহেব আওয়ামী লীগের কোনো কোনো মন্ত্রীর বাড়িতেও গোপন ও প্রকাশ্য বৈঠক করে বেড়াচ্ছিলেন। তার মতিগতিও ভালো ছিল না। মনে হচ্ছিল দেশে সরকার উত্খাতের একটা ষড়যন্ত্র চলছে। বঙ্গবন্ধুকে আমার মনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন ষড়যন্ত্রতো অহরহই হচ্ছে। তবে সফল হবে না।
শেখ ফজলুল হক মনি আমার শঙ্কার কথা জেনে বলেছেন, “এটা ঢাকার প্রেসক্লাবের গসিপ। গাফ্ফার ভাই-ই ছড়াচ্ছেন।” আমি ঢাকা থেকে লন্ডন যাত্রার আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার সমর সেনকেও কথাটা জানিয়েছিলাম, দিল্লিকে বিশেষ করে মিসেস ইন্দিরা গান্ধীকে সতর্ক করে দেয়ার জন্য। তিনিও আমার কথাকে পাত্তা দেননি। তবে বঙ্গবন্ধু ও শেখ মনিকে নাকি আমার শঙ্কার কথাটা জানিয়েছিলেন। ১৫ আগস্টের মর্মন্তুদ ট্রাজেডি যখন ঘটে তখন আমি লন্ডনে। এতো শীঘ্র আমার শঙ্কা সত্যে পরিণত হবে তা বুঝতে পারিনি।
সমর সেন এরপর ঢাকার ট্রাজেডি নিয়ে লেখা ‘মিডনাইট ম্যাসাকার’ নামে একটা বইয়ে উল্লেখ করেছেন, আমি তাকে এই অভ্যুত্থান সম্পর্কে আগেই সতর্ক করেছিলাম। তিনি সেটা ইন্দিরা গান্ধীকে জানানোর জন্য দিল্লির বিদেশমন্ত্রকের সাউথ ব্লকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধীর হাতে সেই বার্তা পৌঁছেনি। সাউথ ব্লক থেকে সেই ফাইল গায়েব করে দেয়া হয়েছিল। অর্থাত্ মিসেস গান্ধীকে এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। ‘মিডনাইট ম্যাসাকার’ নামের বইটি পড়ে বুঝতে পারি বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের শিকড় দিল্লি পর্যন্ত প্রসারিত ছিল।
পুরনো দিনের কথা থাক। বর্তমানের কথায় আসি। শেখ হাসিনার প্রাণনাশের চেষ্টা আজ নতুন নয়। এর আগে প্রকাশ্যে গোপনে কয়েক দফা হয়ে গেছে। গ্রেনেড হামলার মতো ভয়াবহ হামলা থেকেও তিনি বেঁচেছেন। ভবিষ্যতেও তার উপর এই ধরনের অতর্কিত হামলা হবে না তার কোনো নিশ্চয়তাই নেই। দরকার পূর্ব সতর্কতা ও নিশ্ছিদ্র রক্ষা ব্যবস্থা। শুধু সরকারি রক্ষা ব্যবস্থা নয়, দলীয় এবং বিশ্বস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জরুরি দরকার। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, মিসেস গান্ধীকে তার বারো বছরের পুরনো দুই অতি বিশ্বস্ত দেহরক্ষী হত্যা করেছিল।
শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ভালো হোক আর মন্দ হোক, এই মুহূর্তে এর কোনো বিকল্প আর নেই। ড. কামাল হোসেন এবং তার সমগোত্রীয়রা যতো পণ্ডিতই হোন, তারা বাক্যবাগীশ, তাদের না আছে সাহস না আছে বাংলার স্বাধীনতার মূল আদর্শের প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য। এদিক থেকে শেখ হাসিনাই একমাত্র নেত্রী, যিনি গত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে একদিকে স্বৈরাচারী শাসন ও অন্যদিকে মৌলবাদী জঙ্গি অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রাণ বাজি রেখে লড়ছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রুরা এবং সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ শিবির ভাবে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে পারলেই বাংলাদেশকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো মধ্যযুগীয় অন্ধকারে টেনে নিতে আর কোনো বাধা থাকে না। তাই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চারদিকের এই সম্মিলিত ষড়যন্ত্র। একদিকে একটি সুশীল সমাজ অনবরত তার এবং তার সরকারের চরিত্র হননের চেষ্টা চালাচ্ছে; অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ও দলগুলো চাচ্ছে পঁচাত্তরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ।
বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি, তাতে শেখ হাসিনার জীবন নাশের চক্রান্ত থামেনি; কিন্তু তার সাফল্যের সম্ভাবনা ততোটা নেই বলে অনেকে মনে করেন। পঁচাত্তরের চক্রান্তে যে কনট্রিবিউটরি ফ্যাক্টরগুলো কাজ করেছিল। সেগুলোর অনেকটাই বর্তমানে উপস্থিত ও সঙ্ঘবদ্ধ নয় বলে অনেকের বিশ্বাস। কিন্তু প্রধান ফ্যাক্টরটি অর্থাত্ জঙ্গিবাদ ও তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীরা বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী। হত্যার রাজনীতিতে এরা দক্ষ এবং ট্রেনিংপ্রাপ্ত। সুতরাং অন্ততঃ এই একটি ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা সম্পর্কে আওয়ামী লীগ দল ও সরকারের কোনো মহলেরই আত্মসন্তোষে ভোগার কোনো অবকাশ নেই।
পঁচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু হত্যায় কতগুলো ফ্যাক্টর একত্র হয়ে কাজ করেছে। বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর একটি ক্ষুদ্র উচ্চাভিলাষী অংশের বিভ্রান্তি ও ক্ষমতা দখলের লোভ। পাকিস্তানের আইএসআই দ্বারা মদদপ্রাপ্ত বাংলাদেশের কিছু তরুণ সামরিক অফিসারের চক্রান্ত। সরকার উত্খাতের জন্য জাসদের (অবিভক্ত) বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে ইনফেনটাইল এডভেনচার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং তত্কালীন মস্কো-দিল্লি বলয় থেকে দেশটিকে বের করে আনার জন্য আমেরিকার নাশকতামূলক খাদ্য নীতি দ্বারা বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি। ’৭১ এর পরাজিত সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ দলগুলোর সকল আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়ার্ক ও প্রচারণা। বঙ্গবন্ধু সরকার সকল কাজে দিল্লির পরামর্শ মেনে না চলায় এই সরকারকে উচ্ছেদের চক্রান্ত সম্পর্কে দিল্লির শাসকদের একটা অংশের দায়িত্বহীন ভূমিকা গ্রহণ। বঙ্গবন্ধু সরকারকে উত্খাতের জন্য সউদি আরব, পাকিস্তান এবং ক্ষেত্র বিশেষে তত্কালীন চীনের যুক্ত ভূমিকা। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার ভেতরেই একদল বিশ্বাসঘাতক ট্রয়ের ঘোড়ার অনুপ্রবেশ ও অবস্থান গ্রহণ।
পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় নেতাদের হত্যা চক্রান্ত সফল করার ব্যাপারে মূল ফ্যাক্টরটির সঙ্গে এই ধরনের কনট্রিবিউটরি ফ্যাক্টর আরো অনেক ছিল। যেগুলো বর্তমানে উপস্থিত ও সক্রিয় নয়। পঁচাত্তরের জাতীয় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি থেকেও বর্তমান পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন। আমাদের সামরিক বাহিনী এখন আইএসআই-য়ের অশুভ প্রভাব বলয়ে নেই। তারা আধুনিক ও দেশপ্রেমিক পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠেছে এবং বিশ্বময় সুনাম অর্জন করেছে। জাসদ-বাসদ এখন ক্ষুদ্র দল। তরুণ প্রজন্মের উপর তেমন প্রভাব নেই। আমেরিকার দক্ষিণ এশীয় নীতিতে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। মার্কিন-স্বার্থে কোনো বড় রকমের আঘাত না পড়লে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধ্বংস করে পাকিস্তান বা আফগান পরিস্থিতি সৃষ্টি করার আগ্রহ ওবামা প্রশাসন দেখাবে বলে মনে হয় না।
ভারত এখন নিজের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বাজারের স্বার্থেই হাসিনা সরকারকে সমর্থন দেওয়া ছাড়া অন্যপথ দেখছে না। চীন এখন বাংলাদেশের বৈরি নয়। সউদি আরব এখন ইরান ও সিরিয়া নিয়ে ব্যস্ত ও বিব্রত। মার্কিন-বিরোধিতা ও ড্রোন হামলায় পাকিস্তানের আই এস আই’র নখর দন্ত এখন অনেকটা ভোঁতা। যদিও বাংলাদেশে তারা এখনো সক্রিয়। এক্ষেত্রে ভয়টা হচ্ছে, বাংলাদেশে বিএনপি’র পরোক্ষ এবং জামায়াতের প্রত্যক্ষ মদদে জঙ্গি মৌলবাদের শক্তিশালী অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা এবং ধর্মীয় শ্লোগানের আড়ালে ক্রমাগত দেশটির সেকুলার ও গণতান্ত্রিক ভিত্তি ধ্বংস করার চেষ্টা।
এই চেষ্টা সফল করার পথে তাদের সব চাইতে বড় বাধা শেখ হাসিনা এবং তার সরকার। সুতরাং এই পথের কাঁটা দূর করার জন্য শেষ চেষ্টা হিসেবে তারা মরিয়া হয়ে প্রয়াস চালাবে তাতে সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হলো তাতে তারা সফল হতে পারবে কিনা? বর্তমানে নানা ধরনের প্রচারপত্র বিলি এবং প্রচার চালিয়ে তারা এই প্রয়াস সফল করার জমি প্রস্তুত করতে চাইছে। এই ব্যাপারে গণতান্ত্রিক শিবির ও বর্তমান সরকারের অসতর্কতা বিপদের কারণ হবে। এজন্যে সকল মহলের সতর্ক হওয়া উচিত এবং শেখ হাসিনার নিরাপত্তা কঠোর ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
পঁচাত্তরের পুনরাবৃত্তি ঘটানো সম্পর্কে যারা গুজব ছড়াচ্ছেন তাদের ভেতর আওয়ামী লীগের ঘরের লোকও কিছু আছে এটাই হচ্ছে আরও বিপদের কথা। পঁচাত্তরেও বঙ্গবন্ধুর আশেপাশে এরা ছিলেন, বর্তমানে শেখ হাসিনার আশেপাশেও তাদের অবস্থান গ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও যেকোনো সময় পঁচাত্তরের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আওয়ামী লীগ পরিবারের যারা শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং অন্যের মনে সেই শঙ্কায় সংক্রমণ ঘটাতে চান, বুঝতে হবে এরা আওয়ামী লীগের ভেতরে ট্রয়ের ঘোড়া। এদের সম্পর্কেও সরকারের এবং আওয়ামী লীগ দলের সতর্ক হওয়া উচিত। একদিকে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আত্মসন্তোষে না ভুগে তা যেমন জোরদার করা উচিত, তেমনি আবার রজ্জুকে যারা সর্পভ্রম করে পঁচাত্তরের পুনরাবৃত্তির অনিবার্যতা সম্পর্কে গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের সম্পর্কেও দেশের সরকার ও গণতান্ত্রিক শিবিরের সতর্ক হওয়া জরুরি।
লন্ডন ৮ মার্চ, শনিবার, ২০১৪
