গতকাল হয়ে গেল এশিয়া কাপের ফাইনাল; আজ বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন।
ব্যাপারটা কিছুটা অস্বাভাবিক। কেননা একটা টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর দলগুলো ক’দিন বিশ্রাম নেয়, একটু ফাঁকা সময় কাটায়; এমনটাই নিয়ম। কিন্তু এ ছাড়া আসলে উপায়ও নেই। এশিয়া কাপ শেষ হওয়ার আগেই যে শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। এশিয়া কাপ ফাইনালের সপ্তাহখানেকের ভেতরই, ১৬ মার্চ স্বাগতিক বাংলাদেশের খেলা দিয়েই পর্দা উঠবে আইসিসির আয়োজিত বৃহত্তম ক্রিকেট টুর্নামেন্টটির।
ছেলেদের ১৬টি এবং মেয়েদের ১০টি দলকে নিয়ে শুরু হবে ক্রিকেট ইতিহাসের বৃহত্তম এই মহাযজ্ঞ। প্রথম দফায় ছেলেদের বিশ্বকাপের প্রথমপর্বে দুই গ্রুপে খেলবে আটটি দল। দুই গ্রুপের দুই চ্যাম্পিয়ন এবং বাকী আট সেরা দলকে নিয়ে ২১ মার্চ থেকে শুরু হবে সুপার-টেনের খেলা। আর ২৩ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে মেয়েদের বিশ্বকাপ অংশ।
পুরো এই মহাযজ্ঞ উপলক্ষে মাঠে ও মাঠের বাইরে বাংলাদেশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে এবং বিশ্বকাপের গন্ধ যে আকাশে-বাতাসে ছড়াতে শুরু করেছে, তাতে আর সন্দেহ নেই। সবগুলো ভেন্যু সাজিয়ে তোলা, কেন্দ্রস্থল ঢাকা মহানগরীকে তিলোত্তমা করে তোলা, শেষ সময়ের নানা আয়োজন, কনসার্ট দিয়ে মাতানোর প্রস্তুতি; এসব চলছে মাঠের বাইরে। ইতিমধ্যে এশিয়া কাপে খেলতে আসা আফগানিস্তান চট্টগ্রামে ক্যাম্প শুরু করে দিয়েছে। এশিয়া কাপের দুই ফাইনালিস্ট টুর্নামেন্ট শেষ করেই প্রস্তুতিতে নেমে পড়বে। এদিকে জিম্বাবুয়ে নিজেরাই চলে এসেছে দুই দিন আগে। আর আজকের মধ্যেই প্রথম রাউন্ডে খেলার জন্য বাংলাদেশে এসে নামবে হংকং, নেপাল, আয়ারল্যান্ড, হল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আর পুরো দেশের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে বাংলাদেশ মাত্র একটা দিন বিশ্রাম নিয়েই শুরু করে দিচ্ছে অনুশীলন। আজ মুশফিকের সংবাদ সম্মেলন দিয়ে শুধু বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে, তাই নয়; শুরু হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযাত্রাও।
বাংলাদেশের এমনিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাফল্যের কোনো ইতিহাস নেই। শুধু প্রথম আসরে, সেই ২০০৭ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে। এরপর থেকে আর এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কোনো সাফল্য নেই, এই ফরম্যাটেই নেই আসলে।
তারপরও ঘরের মাটির এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে একটা আশা তৈরী হয়েছিল বা হয়েছে। কারণ হল ২০১২-১৩ সাল জুড়ে অন্তত ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজেদের মাঠে টানা ভালো পারফরম্যান্স। যদিও সেই ওয়ানডেতেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ ও এশিয়া কাপে দলের ব্যর্থতা; বিশেষ করে বার বার কাছে গিয়ে হারায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে তৈরী হয়েছে শঙ্কা।
এর মাঝে মাঠের পারফরম্যান্স ও বাইরের নানা বিতর্ক মিলিয়ে দল একেবারে জর্জরিত অবস্থায় চলে গিয়েছিলো। তার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরাজয়ে। পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাস সেরা ব্যাটিং করেও ক্ষতিপূরণ হয়নি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ তাই মূলত নিজেদের ধসেপড়া আত্মবিশ্বাসটা চাঙা করা। সেটা করতে মাঠে যেসব ক্রিকেটীয় কাজ করা দরকার, ক্রিকেটাররা করবেন। পাশাপাশি মাঠের বাইরে আলোচনা, পরিকল্পনায় নানা পরিবর্তন এনে কিছু সুফল পাওয়ারও চেষ্টা চলছে। এমনকি মাসখানেক আগেই ঘোষিত স্কোয়াডেও কিছু বদল আনার সুযোগ বোর্ড খুঁজছে বলে শোনা যাচ্ছে। সবকিছুরই মূল লক্ষ্য দলকে আবার রাস্তায় ফেরানো।
কিন্তু আফসোসের ব্যাপার, সে জন্য সময় বড়ই কম!
