এই আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় অ্যাথলেটিকসের আসরে অন্তত ৫০ জন সাংবাদিক বসে থাকতেন শাহআলম, ফিরোজাদের খেলা দেখতে। গৌরবময় জাতীয় অ্যাথলেটিকসের আসর মানেই ছিল বাড়তি একটা উত্সব। দেশ জুড়ে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন তারকার খোঁজ মিলতো এই আসরে। যে কারণে ঘটা করে আয়োজন হতো অ্যাথলেটিকসের। এখন দেশের অ্যাথলেটিকসের করুণ হাল। বিবর্ণ হয়ে গেছে। খেলোয়াড় নেই। আকর্ষণ নেই। দ্রুততম মানবী নাজমুন নাহার বিউটি তার ইভেন্ট ১০০ ও ২০০ মিটারে লড়াই করেননি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম চট্টগ্রামে। প্রস্তুতি ভালো হয়নি বলে ওই দুটি ইভেন্টে খেলিনি।’ তবে বিউটি ৪০০ মিটার রীলেতে খেলে স্বর্ণ পেয়েছেন। প্রস্তুতি না থাকায় কাপ মাসলে টান লেগে কাতরাচ্ছিলেন কাল বিকালে। ছিলেন না হার্ডলার সুনিতা রানী, সরব উপস্থিতি ছিল না সামসুন নাহার চুমকি, পাপিয়া রাণী সরকারের।
৩৮তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস শেষ হয়ে গেলো। অথচ নতুন জাতীয় রেকর্ড নেই। ভঙ্গুর অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন যেন নামকাওয়াস্তে একটা আয়োজন করতে গিয়ে নানা অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেন অনেকেই। একজন সাবেক মহিলা অ্যাথলেট বললেন, স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও এর চেয়ে আকর্ষণীয় হয়। জৌলুসপূর্ণ হয়। এভাবে পরিকল্পনা না নিয়ে খেলা আয়োজন করাটা ঠিক না।’ ফেডারেশন সভাপতি নিজেই বললেন, ‘অ্যাথলেটদের মান কোথায় গিয়ে নেমেছে। একটা ন্যাশনাল রেকর্ড নেই।’
ফেডারেশনের মধ্যে রয়েছে নানা অনিয়ম। নিজেদের মধ্যে অমিল। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যোগ্য সংগঠকের অভাব। আভ্যন্তরীণ কোন্দল আর অদূরর্শীতার কারণে অ্যাথলেটিক খেলাটা যেন হারিয়ে যেতে বসেছে।
ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস কানাডায় গিয়ে আসেননি। দীর্ঘদিন তার অনুপস্থিতিতে তারই অনুসারীরা বার বার বলে আসছেন চেঙ্গিস ভাই চলে আসবেন। প্রতিদিনই একই কথা। অথচ তাদের চেঙ্গিস ভাইয়ের দেখা মিলছে না। ফেডারেশনের আরেকটি সূত্রের দাবি, সাধারণ সম্পাদক চাইলেও এখনই আসতে পারছেন না, তার রাজনৈতিক অনিয়মের কারণে।
একজন সাবেক অ্যাথলেট নজির আহমেদ বলছেন, ফেডারেশনের কিছু লোকজনের জন্য দেশের এক সময়ের আকর্ষণীয় খেলাটা শেষ হতে চলেছে। সাধারণ সম্পাদক নেই। ফেডারেশন সভাপতি আলী কবীর সাহেবও তিন দিনে একবার মাঠে আসেননি। আমি তাকে দেখিনি।’ সন্ধ্যায় আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীত বাজিয়ে শেষ হলো জাতীয় অ্যাথলেটিকস। কিন্তু তখনও দেখা গেলো না ফেডারেশন সভাপতিকে। সন্ধ্যায় ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফেডারেশন সভাপতি আলী কবীর বলেন, আমি অসুস্থ। যে কারণে যেতে পারিনি। এখন বাসায় আছি। শরীর খুব খারাপ।’
বিজেএমসির ১১টি স্বর্ণ, ১৩টি রৌপ্য এবং ৯টি ব্রোঞ্জ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। নৌবাহিনী ১১টি স্বর্ণ, ৩টি রৌপ্য এবং ২টি ব্রোঞ্জ নিয়ে রানার্সআপ হয়। সেনাবাহিনী ৯টি স্বর্ণ ১৫টি রৌপ্য এবং ১১টি ব্রোঞ্জ পেয়ে তৃতীয় হয়েছে। বিকেএসপির ৫টি স্বর্ণ। জেলা, বিভাগ, শিক্ষাবোর্ড ও সংস্থা হতে ৫৩ টি দলের মোট ৫১৯ জন এ্যাথলেট অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে ৩৩৪ জন পুরুষ এবং ৮৫ জন মহিলা অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করেন।
