গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেখে তারপরই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র প্রকল্পের নির্মাণাধীন ভবনের দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেবে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘উই অ্যার ওয়েটিং ফর দ্যা রিপোর্ট’। যেহেতু মিনিস্ট্রি কাজ করছে, আমরা রিপোর্ট চাইব, আমরা রিপোর্ট দেখব, তারপরে যদি দেখি সেরকম উপাদান আছে, সেখানে অবশ্যই আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।
দুদক চেয়ারম্যান আরো বলেন, কথা হলো দুর্নীতি হয়েছে বা হয়নি। গণমাধ্যমের যে তথ্য তা আমি দেখেছি। বালিশ, কেতলি এ সকল বিষয়। দেখেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কিছু প্রসিডিউর আছে। একটা রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তো জাম্প দিতে পারি না। সেটা দেখতে হয়, বুঝতে হয়, চারদিক দেখতে হয়। আমরা ইতিমধ্যে কথা বলেছি, জেনেছি যে অলরেডি দুটি কমিটি কাজ করছে। পত্রিকায় যে নিউজ সেটিও আমাদের কাছে এসেছে। এসব দেখে আমি একটা অর্ডার করেছি। সেই অর্ডারটি হল— সেই তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
তিনি বলেন, সবাই যদি একই জিনিস নিয়ে কাজ করতে থাকি তাহলে জিনিসটা ভালো দেখায় না। তারা কী রিপোর্ট দেয়, সেই রিপোর্ট দেখে তখন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদের কতগুলো প্রজেক্ট আছে যেগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে হঠাত্ করে আপনি জাম্প করবেন, সেখানে চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। এটা জাতীয় বিষয়, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প বহুদিন ধরে চলছে। কিন্তু এটার বাস্তবায়নের কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও গুরুত্বপূর্ণ। সো জাস্ট ওয়েট। টেলিভিশনে দেখলাম একজন মন্ত্রী বলছেন যে, বেতন-ভাতা এগুলো সঠিক নয়। বালিশের ক্ষেত্রে এরকম একটা পরিস্থিতি তো হতেও পারে।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় কেনাকাটায় অনিয়ম খতিয়ে দেখতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত ১৯ মে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে এ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার পেমেন্ট বন্ধ রাখা হবে। এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নির্দেশনা প্রদান করেছে।
