দেবিদ্বারের ছেঁচরাপুকুরিয়া গ্রামের প্রবাসী মোবারক হোসেনের স্ত্রী শাহিনার লাশ গভীর নলকূপ থেকে আজ তোলা হবে। একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পুলিশ ৮০ হাজার টাকায় লাশ তোলার চুক্তি করেছে।
জানা যায়, স্বামীর নির্দেশে দুই লাখ টাকা চুক্তিতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি তিন সন্তানের জননী ঐ গৃহবধূকে ভাড়াটে খুনি আব্দুল করিমসহ আরো কয়েকজন শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা পরিত্যক্ত ঐ গভীর নলকূপের পাইপে ফেলে গুম করে রাখে। নিহতের ভাইয়ের জিডির সূত্র ধরে পুলিশ মোবাইল ট্রাকিং করে হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর খুনের রহস্য উন্মোচন করে।
শাহীনার পরিবারের সদস্য সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর পূর্বে তুলাগাঁও গ্রামের মোঃ কেরামত আলী সরকারের মেয়ে শাহিনার (৩৫) সাথে মোবারক হোসেনের (৪০) বিয়ে হয়। তাদের ১১ ও ৮ বছরের দুই ছেলে এবং ৫ বছরের এক মেয়ে রয়েছে। ২ বছর পূর্বে মোবারক হোসেন দেশে আসার পর দাম্পত্য কলহ হয়। শাহিনার ওপর তখন থেকেই নির্যাতন চলতে থাকে।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি মোবারক বিদেশে চলে যাওয়ার পরও তার পরিবার শাহিনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে শাহীনা বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মোবারক বিদেশ থেকে মোবাইল ফোনে এবং তার পরিবারের সদস্যরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করার পরও শাহিনা মামলা তুলে না নেয়ায় স্বামী মোবারক হোসেন দুই লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনী দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে।
শনিবার নিহত গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার কাজ দেখার জন্য সাধারণ মানুষ ভিড় করে ঘটনাস্থল ছেঁচরাপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন গভীর নলকূপ এলাকায়। দেবিদ্বার থানার অফিসার ইন-চার্জ তারেক মোহাম্মদ হান্নান জানান, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
