সরকারকে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণাসহ ২৮টি দাবি করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। দাবিতে তারা জানিয়েছে, হাইকোর্টের রায়ের আলোকে জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। ’৭২-এর সংবিধানের নীতিমালাগুলো সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশের ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
গতকাল শনিবার বিকালে কেন্দ ীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ৬৭টি নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’ আয়োজিত সমাবেশে নারীনেত্রীরা এসব দাবি জানান। সমাবেশ ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ‘রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ কর, নারীর ক্ষমতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত কর’- এই শ্লোগান নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন উইমেন ফর উইমেন-এর প্রেসিডেন্ট জাকিয়া কে হাসান ও এফপিএবি’র জেলা কর্মকর্তা মোসা. সাবিনা ইয়াসমিন। সমাবেশে শতাধিক নারীনেত্রী ও মানবাধিকার কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ’র ফ্লোরেন্স গোমেজ।
সমাবেশের ঘোষণাপত্রে আরো বলা হয়, নারী সংসদ সদস্যদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য এলাকা ও অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে এবং সকল স্তরের নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধিদের গণতান্ত্রিক সুশাসন বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নেতৃত্ব বিকাশে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ থাকতে হবে। স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরের নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করে সরকার ব্যবস্থায় নারীর সমঅংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্থানীয় সরকারবিষয়ক সংবিধানের ধারাগুলো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বন্টনের মাধ্যমে পরিকল্পনা উন্নয়ন কর্মসূচিতে কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। রাজনৈতিক দলসমূহে নারী নেতৃত্বের বিকাশের লক্ষ্যে সকল কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশের আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাগরণমূলক প্রতিবাদী সঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও নাগরিক উদ্যোগ শিল্পীগোষ্ঠী। একক সংগীত পরিবেশন করেন ঝুমুর আহমেদ ও শিল্পী বিজন চন্দ মিস্ত্রী। আদিবাসী নৃত্য পরিবেশন করে ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম’, নৃত্য পরিচালনা করে ‘জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম। নৃত্যশিল্পী রূপশ্রী চক্রবর্তীর পরিচালনায় গীতিনাট্য পরিবেশন করে ‘শিল্পবাংলা’।
নারী উন্নয়ন শক্তি
‘অগ্রগতির মূল কথা, নারী-পুরুষ সমতা’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারী উন্নয়ন শক্তি বনশ্রী ট্রেনিং সেন্টারে আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা শহরের ২০টি এলাকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ড. আফরোজা পারভীন বলেন, ‘নারীদের সমতা প্রতিষ্ঠা করে আমরা সবার জন্য অগ্রগতি সাধন করতে চাই’। উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা এবং সমান সুযোগ দেয়া গেলে দারিদ্র্য অনেকাংশে লাঘব হবে বলে তিনি সভায় মত প্রকাশ করেন।
২০টি এলাকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দল থেকে বক্তব্য রাখেন জাহানারা বেগম, পারভীন আকতার, সাজেদা বেগম, জেসমিন আকতার, স্বপ্না আকতার, আয়শা বেগম, রোকেয়া বেগম ও পুতুল আকতার। তারা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সমাজের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানান। ড. সুলতান মুহম্মদ রাজ্জাক সভায় বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখেন সাহিদা ওয়াহাব ও আবদুল মোমিন, নারী উন্নয়ন শক্তি।
