নারায়ণগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন

কম জনপ্রিয়দের মনোনয়ন দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৪, ২২:৫২
নারায়ণগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপির নেতারা তাদের অনুগত কম জনপ্রিয় লোককে প্রার্থী ঘোষণা করায় আওয়ামী লীগের পথ সুগম হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আড়াইহাজার উপজেলায় চেয়ারম্যান হিসেবে এমন একজনকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে যিনি বিএনপি কিংবা কোন সহযোগী সংগঠনের কোন পদে নেই, এমনকি রাজনীতিতে কোন অবস্থানও নেই। একই অবস্থা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীর ক্ষেত্রে। এ উপজেলায় পদধারী বিএনপি নেতাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হলেও আন্দোলন সংগ্রামে একেবারেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। এসব ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতি আবারো প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আগামী ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো: আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ৫টি উপজেলার মধ্যে শুধু সোনারগাঁয়ে বিএনপির সকল গ্রুপ এক সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নানকে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেয়। আড়াইহাজার উপজেলায় একক প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে বেশ কয়েকবার দেনদরবার হলেও গত বুধবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গাজী মাসুদকে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেয়। ওই সভাতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুজ্জামান খান খসরু ও তার ভাই সাবেক এমপি আতাউর রহমান গাজী মাসুদকে সমর্থন দেয়। এ ঘোষণার পরেই শুরু হয় তোলপাড়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যুবদল নেতা বলেন, গাজী মাসুদ আওয়ামী পরিবারের সদস্য। তার আপন দুই ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। আওয়ামী লীগের অনেক অনুষ্ঠানেই গাজী মাসুদকে দেখা গেছে এমপির সঙ্গে। আওয়ামী লীগের সমর্থককে চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হলেও এ উপজেলাতে চেয়ারম্যান পদে হেভিওয়েট অনেক প্রার্থীকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিএনপি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে মহিলা দল নেত্রী পারভিন আক্তারকে। তবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে একটি সূত্র জানায়। এখন পর্যন্ত ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়নি। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রিয়াজুল ইসলাম খোকন বলেন, এই মনোনয়ন অপরিবর্তিত থাকলে আড়াইহাজারে বিএনপির অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়বে। আড়াইহাজারে তিনি কেন্দ ীয় কমিটিকে যাচাই বাছাই করে যোগ্য প্রার্থী ঘোষণা করার আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুজ্জামান খান খসরু জানান, থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার জানান, গত জুলাইতে উপজেলার দুটি পৌরসভায় প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম। প্রার্থীর পরাজয়ের ফলে আমার উপর দোষ পড়ায় এবার উপজেলা বিএনপিকে প্রার্থী বাছাই করতে বলা হয়েছে। তারাই প্রার্থী নির্বাচন করেছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলাতেও বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের একগুঁয়েমির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে থাকা যুবদলের কেন্দ ীয় কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুকে পাশ কাটিয়ে একক প্রার্থী দেয়ার কারণে স্থানীয় বিএনপির শক্তিশালী অংশ এখন ক্ষুব্ধ।