রাজধানীতে গার্মেন্টস শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষ গুলি, আহত ১৫

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৪, ২২:৫২
অগ্রীম তিন মাসের বেতনের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ ও যানবাহন ভাংচুর করেছে সদ্য বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘পাইওনিয়ার’ গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। গতকাল শনিবার সকাল ৯ টার দিকে এ দাবি নিয়ে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করার সময় শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটেছে। পুলিশ ও শ্রমিকসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ও শটগানের গুলি নিক্ষেপ করে। ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও ভাংচুরে মিরপুর ১২ নম্বর থেকে ১০ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত মূল সড়কে সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১ ঘন্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকরা দাবি করেছে, বিনা উস্কানিতে পুলিশ তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, এশিয়া কাপ ফাইনাল খেলা শুরুর আগে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শ্রমিকরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। আন্দোলনকারীরা জানান, কয়েকদিন আগে মালিকপক্ষ জানিয়েছিল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কারখানা বন্ধ করে দেয়া হবে। শ্রমিকরা কারখানা বন্ধের আগে তাদের প্রাপ্য ৩ মাসের অগ্রিম বেতন দাবি করে। কিন্তু মালিকপক্ষ তাদের দাবি উপেক্ষা করে পূর্ব নোটিস ছাড়াই কারখানা বন্ধ করে দেয়। মালিকপক্ষের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও ন্যায্য পাওনা আদায়ের দাবিতে গতকাল সকাল ৯ টার দিকে মিরপুর ১২ নম্বর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে। টিয়ার শেল ও শটগানের গুলি ছোঁড়ে। পল্লবী থানার ওসি জিয়াউজ্জামান বলেন, মালিকপক্ষ জানিয়েছে গার্মেন্টসের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কিছুদিন আগে তা বন্ধ করে দেয়। কর্তৃপক্ষ তাদের গার্মেন্টস স্থানান্তর করতে চেয়েছিল। তবে শ্রমিকরা স্থানান্তরের আগেই তাদেরকে তিন মাসের অগ্রিম বেতন দেয়ার দাবি করে আসছে। তিনি বলেন, সকালে তারা রাস্তায় নেমে ভাংচুর শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়। শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। শ্রমিকদের ইটের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন জিয়াউজ্জামান। টিয়ার শেল ও শটগানের গুলির বিষয়ে তিনি বলেন, এশিয়া কাপ ফাইনালের আগে ওই এলাকায় যেকোন ধরনের বিক্ষোভ বা ভাংচুরের ঘটনা প্রতিহত করতেই পুলিশ এ পদক্ষেপ নিয়েছে।