উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে গতকাল শনিবার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। উপজলো পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ইকবাল হোসেন সবুজ ও আবদুল জলিলের অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ইকবাল হোসেন সবুজের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র বের করে শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ৪০ জন গুলিবিদ্ধসহ ৭০ জন আহত হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় শ্রীপুর পৌর শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জলিলের সমর্থকরা পৌরসভা কার্যালয়, ৩০টির মতো মোটর সাইকেল ও কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, আওয়ামী লীগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্য থেকে যেকোন একজনকে প্রার্থী হওয়ার জন্য আলোচনার ব্যাপারে গতকাল সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বর্ধিত সভা চলছিল। একই স্থানে জলিলের অনুসারীরা শুক্রবার তাকে আটকের প্রতিবাদে একটি প্রতিবাদ সভা আহ্বান করে। বর্ধিত সভার শেষ পর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আবদুল জলিলের অনুসারীরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এই খবর জানতে পেরে ইকবাল হোসেন সবুজের অনুসারীরাও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। সবুজের দেহরক্ষীরা শ্রীপুর রেলগেট থেকে আওয়ামী লীগ অফিস পর্যন্ত গুলি করতে করতে এগুতে থাকে। এতে এসআই জিয়াউল হকসহ ৪০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। এসময় পিছু হটে জলিলের অনুসারীরা। পরে তারা একত্রিত হয়ে আবারো হামলা চালায়। এভাবে থেমে থেমে প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এ সময় জলিলের সমর্থকরা শ্রীপুর পৌর কার্যালয়ের তালা ভেঙ্গে মেয়রের অফিসসহ বিভিন্ন কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। পৌরসভার ব্যবহূত চারটি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে তারা। নির্বাচনী প্রচারণার কাজে যাওয়া ইকবাল হোসেন সবুজের গাড়ি বহরে হামলা চালাতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছে ছাত্রলীগ কর্মী আল আমিন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় জলিলের নেতাকর্মীদের হামলার সম্মুখীন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গুলিবিদ্ধ যাদের নাম জানা গেছে- ফরহাদ, জাকিরুল হাসান জিক, মোহাম্মদ আলী, তানজিল, আনোয়ার হোসেন, কফিল উদ্দিন, আসাদ প্রধান, আলামীন, মিজানুর রহমান, ইফাজ উদ্দিন, আবুল কাশেম, জিলাল উদ্দিন, মারুফ হোসেন, সুমন মিয়া, আমিনুল, বাবুল, রুমান , মাইনুদ্দিন, কামরুল হাসান, হায়দার আলী, অ্যাডভোকেট আবদুস ছালাম, ফরহাদ রেজব ও আলাউদ্দিন টুটুল।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান জানান, জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশে সকাল ১০টায় একটি বর্ধিত সভা শুরু হয়। সভার শেষ পর্যায়ে আবদুল জলিলের কর্মী-সমর্থকরা হঠাত্ করে অফিসে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে। এতে শুরু হয় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এক পর্যায়ে ইকবাল হোসেন সবুজের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা শর্টগান বের করে শতাধিক রাউন্ড গুলি করে আওয়ামী লীগ অফিসে অবস্থান নেয়।
আবদুল জলিলের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন- ইকবাল হোসেন সবুজের সমর্থকরা দা, লাঠি, ধারালো অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। তারা পুলিশের সামনেই আমাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপর গুলি চালায়। উদ্ভূত ঘটনার জন্য শ্রীপুর মডেল থানার এএসপি সার্কেল আক্তারুজ্জামানকে দায়ী করে তার অপসারণ দাবি করেছে জলিলের সমর্থকরা।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪১ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ১৩ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছে। তিনি আরো জানান, সংঘর্ষে এসআই জিয়াউল ইসলাম জিয়াসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। জেলার বিভিন্ন থানা থেকে আনা বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন আছে।
মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষে আহত ১৪
এদিকে মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গজারিয়া উপজেলা নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে গজারিয়া থানার ওসিসহ কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আমিরুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দুপুর পৌনে ১টা থেকে সোয়া ২টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ বাধা দিতে গেলে ওসি মামুন অর রশিদসহ আহত হন কমপক্ষে ১৪ জন। আহত ওসি মামুন অর রশিদ জানান, শুক্রবার রাতে বালুয়াকান্দি এলাকায় রেফায়েত উল্লাহ খান তোতার ২টি মাইক ভাংচুর ও মাইকম্যানকে মারধর করে আমিরুলের সমর্থকরা। গতকাল উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটা-কাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
