ইউক্রেনের স্বায়ত্ত্বশাসিত উপদ্বীপ ক্রিমিয়ায় আক্রমণে প্রস্তুত রাশিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত আক্রমণ করা হবে কিনা সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয় মস্কো। ক্রিমিয়ার পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যরা ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে যে আবেদন জানিয়েছেন তাতে সাড়া দিবে রাশিয়া। এর ফলে ইউক্রেন নিয়ে সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার এই প্রথম রাশিয়া ক্রিমিয়ায় আক্রমণের প্রস্তুতির ব্যাপারে আভাস দিয়েছে। ইউক্রেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করছে। রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ এবং নিম্নকক্ষ উভয় পরিষদের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাশিয়া ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত করতে ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট সদস্যদের আবেদনে সাড়া দিবেন তারা। শুক্রবার রাশিয়ার সংসদীয় দলের নেতারা ক্রিমিয়ার পার্লামেন্টের একটি প্রতিণিধি দলকে স্বাগত জানান এবং তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান। আগামী ১৬ মার্চ এ বিষয়ে জনগের রায়ের জন্য ক্রিমিয়ায় গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ইউক্রেন সরকার এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তির অবরোধ আরোপের হুমকিকে তোয়াক্কা না করেই রাশিয়া ক্রিমিয়ার ব্যাপারে কঠিন সিদ্ধান্ত নিবে। শুক্রবার রাশিয়ায় একটি বিশাল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রায় ৬০ হাজার নাগরিক উপস্থিত হন। র্যালিতে ‘রাশিয়া, মস্কো এবং ক্রিমিয়া’ স্লোগান দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করা হয়। এ সময় ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানানো হয়।
গত কিছুদিন ধরেই রাশিয়া ক্রিমিয়ায় সৈন্য মোতায়েন করছে। তবে আক্রমেণর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আর যদি রাশিয়া আক্রমণ করে বসে তাহলে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে করা চুক্তির লঙ্ঘন হতে পারে। রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার সের্গেই ওয়াই ন্যারিশকিন বলেন, তারা ক্রিমিয়ার জনগণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবেন।
