১৯৭৭ সালে বৃহত্তম দুর্ঘটনায় নিহত হন ৫৭৪ জন

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৭
ইতিহাসে প্রথম বিমান দুর্ঘটনাটি ঘটে ১৯১৯ সালে। ইটালির ভেনোরাতে একটি ফ্লাইট দুর্ঘটনায় অন্ততঃ ১৭ জন নিহত হন। এরপর ১৯২০, ১৯২১, ১৯২৫ এবং ১৯৩২ সাল ছাড়া অন্য সব বছরেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আকাশ যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে নানা প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়েছে। ’৯০-এর দশকের আগে বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলো দুর্ঘটনায় বেশি পড়লেও সে হার এখন কমে আসছে। নিরাপত্তার দিকে এয়ারলাইন্সগুলো এখন আরো অনেক বেশি খরচ করছে। তবে ছোট এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইটে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। গত ১৫ বছরে ছোট এবং বড় মিলিয়ে দুই হাজারের মতো বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ শুক্রবার গভীর রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট দুর্ঘটনায় ২৩৯ জন যাত্রী ও ক্রু’র প্রাণহানির আশংকা করা হচ্ছে। যেসব বিমান দুর্ঘটনায় ২শ’র বেশি যাত্রী নিহত হয়েছেন তার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এভিয়েশন ইতিহাসে মোট ১৯টি দুর্ঘটনার প্রত্যেকটিতে ২শ’র বেশি যাত্রী নিহত হয়েছেন। ১৯৭৪ সালের ৩ মার্চ টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট প্যারিসের কাছে একটি পার্কে আছড়ে পড়ে। এতে ৩৪৬ জন যাত্রী এবং ক্রু প্রাণ হারান। ১৯৭৭ সালের ২৭ মার্চ রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৪৭ ফ্লাইটের সাথে ক্যানারি আইল্যান্ডের কাছে প্যান আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বিমানের ৫৭৪ জন যাত্রী নিহত হয়। ১৯৭৯ সালের ২৫মে প্যান আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ডিসি-১০ বিমান শিকাগোর একটি এয়ারপোর্ট থেকে উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনায় পতিত হয়। টেক-অফ্ করার কিছুক্ষণের মধ্যে ফ্লাইটটির বাম ডানা ভেংগে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় ২৭৫ জন যাত্রী এবং ক্রু মারা যান। একই বছর ২৮ নভেম্বর এয়ার নিউজিল্যান্ডের একটি ফ্লাইট আটলান্টিক মহাসাগরের আকাশে অপর একটি ছোট প্লেনের সাথে ধাক্কা খায়। এতে দুটি ফ্লাইট বিধ্বস্ত হলে অন্তত ২৭৫ জন মারা যান। ১৯৮৫ সালের ১২ আগষ্ট পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুটি দুর্ঘটনার একটি ঘটে। জাপান এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৪৭ টোকিও থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যে পার্শ্ববর্তী একটি পাহাড়ের সাথে ধাক্কা খায়। এতে ৫২০ যন মারা যান। এ দুর্ঘটনায় সৌভাগ্যক্রমে চারজন বেঁচে গেছেন। ১৯৯১ সালের ২৬ মে লাউদা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ব্যাংকক থেকে উড্ডয়নের পর বিধ্বস্ত হয়। এতে ২২৩ জন মারা যান। একই বছরের ১১ জুলাই নাইজেরিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে উড্ডয়নের পর এর চাকায় আগুন ধরে যায়। এতে ফ্লাইটটি বিস্ফোরিত হলে ২৬১ জন মারা যাান। ১৯৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল চায়না এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট জাপানের নাগোয়া বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হলে ২৬৪ জন যাত্রী এবং ক্রু প্রাণ হারান। এ দুর্ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। ১৯৯৬ সালের ১৭ জুলাই টিডব্লিউএ’র ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে টেক-অফ্ করার পর বিধ্বস্ত হয়। এতে ২৩০ জন নিহত হয়। উড্ডয়নের পর বিমানটির ফুয়েল ট্যাংকে আগুন ধরে যায়। একই বছরের ১২ নভেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কাজাকস্তান এয়ারলাইন্সের অপর একটি ফ্লাইটের সংগে সংঘর্ষে ৩৪৯ জন মারা যায়। ১৯৯৭ সালের ৬ আগষ্ট সাউথ কোরিয়ান এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট সিউল ত্যাগ করে গুয়ামে পৌঁছানোর একটু আগে বিধ্বস্ত হলে ২২৮ জন মারা যায়। একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার গারুদা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বিধ্বস্ত হলে ২৩৪ জন মারা যান। ইঞ্জিনের সাথে ফুয়েল ট্যাংকের সংযোগ পাইপে শট-সার্কিট হয়ে এ আগুন লাগে। ১৯৯৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি চায়না এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ইন্দোনেশিয়া থেকে তাইওয়ান যাচ্ছিলো। পথে ঘন কুয়াশা এবং বৃষ্টির কারণে পাইলট তাইপে বিমানবন্দরে নামতে চান। সেখান থেকে সংকেত দেয়ার আগেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ২০২ জন প্রাণ হারান। একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর সুইস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে জেনেভা যাবার পথে কানাডার কাছে বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা ২২৯ জন যাত্রীই মারা যান। ২০০২ সালের ২৫ মে চায়না এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট তাইওয়ান থেকে টেক-অফ্ করার পর বিধ্বস্ত হয়।এতে ২২৫ জন মারা যান। ২০০৯ সালে এয়ার ফ্রান্সের একটি এয়ারবাস ফ্লাইট রিওডি জেনিরো থেকে প্যারিস আসার পথে আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়। এতে ২২৮ জন যাত্রী ও ক্রু মারা যান। ফরাসী নৌবাহিনীর সহায়তায় সাগরের গভীর তলদেশে সাবমেরিনের সাহায্যে ব্যাপক অনুসন্ধানেও খুঁজে পাওয়া যায়নি এর ব্লাক বক্স।