ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুবিধায় স্থিতাবস্থা

আপডেট : ২১ মে ২০১৯, ২২:৩৯

ঋণ খেলাপিদের নিয়মিত হওয়ার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, ওই প্রজ্ঞাপন ‘দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন’ এর মত। হাজার হাজার কোটি টাকা লোন নিয়ে যারা ব্যাংক লুট করে ফেলল তাদেরকেই যেন আবার দুধ-কলা দিয়ে পোষা হচ্ছে। এই সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে আরো এক লাখ কোটি টাকা নিয়ে যাবে। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে গত ১৬ মে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতার উপর স্থিতিবস্থা জারি করেছে হাইকোর্ট। ২৪ জুন পর্যন্ত এই স্থিতিবস্থা বজায় থাকবে। পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে ঋণ খেলাপিদের তালিকা আদালতে দাখিলের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিশেষ সুবিধা সংক্রান্ত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঋণ খেলাপিরা মাত্র দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। পুনঃতফসিল হওয়া ঋণ       পরিশোধে তারা সময় পাবেন টানা দশ বছর। এক্ষেত্রে প্রথম এক বছর কোনো কিস্তি দিতে হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে সম্পূরক আবেদন করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, ঋণ খেলাপিদের তালিকা যেন আদালতে দাখিল করতে না হয় সেজন্যই এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এটা আদালতের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। ব্যাংকের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেজন্য ব্যাংক এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এটা ব্যাংকের ঋণ আদায়ের কৌশলের অংশ।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবসা বান্ধব নয়। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটাই আমাদের দেখার বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও ‘ওয়ান ডিজিট সুদ’ ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অথচ উল্টো ঋণ খেলাপিদের পক্ষ নেয়? এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট বলেছে ওই সার্কুলার ‘দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন’ এর মত। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পাচার করা হচ্ছে অর্থ, অথচ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নাই। আবার যদি তারা সুযোগ পায় তাহলে তারা আরো এক লাখ কোটি টাকা নিয়ে যাবে।