এ গি য়ে যা ও য়া না রী

পুলিশ অফিসার আছমা

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৪, ২০:০০
চোর, দালাল আর অপরাধী নিয়ে কাজ। বিমানবন্দরে যেকোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, যাত্রীদের হয়রানি ও অবৈধ চোরাচালান বন্ধ কিংবা পাচার করা স্বর্ণ উদ্ধারে বিমানবন্দরে দারুণ কর্মদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান। প্রতিদিন দেশের বাইরে থেকে আসা দেশি এবং বিদেশি হাজার হাজার যাত্রীকে ঝামেলামুক্ত প্রক্রিয়ায় নির্ঝঞ্ঝাটে দেশে প্রবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে এপিবিএন। আর এই বাহিনীতেই এএসপি হিসেবে কর্মরত আছমা আরা জাহান। হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ এ কথা হয় তার সাথে। কথায় কথায় উঠে আসে তার শৈশব, কৈশোর, পড়ালেখা ও চাকরি জীবনের নানা প্রসঙ্গ। আর অবধারিতভাবেই ঘুরে ফিরে আসে আমাদের দেশের অবহেলিত নারী সমাজের সমস্যা ও সম্ভাবনার নানা দিক। আছমা আরা জাহানের জন্ম কিশোরগঞ্জে। বাবা-মা’র ছয়কন্যার মধ্যে তিনি তৃতীয়। ছোটবেলায় সাইকেল চালানোসহ বিভিন্ন খেলায় ছেলেদের সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দেয়ায় সবাই তাকে এলাকার ‘দস্যি মেয়ে’ হিসেবেই চিনতো। জেলা শহর থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ‘দস্যিপনা’ স্বভাব হলেও ছোটবেলা থেকে পড়ালেখায় দারুণ মনোযোগী আছমা। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস থার্ড ও মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস সিক্সথ হন। এরপর ৩০তম বিসিএস-এ অংশ নেন। জীবনের প্রথম বিসিএস-এ অংশ নিয়েই পুলিশে মেধায় ১৩তম স্থান অধিকার করেন। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, একজন নারী হিসেবে এ পর্যায়ে আসতে সমাজ ও পরিবারে কি ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন? স্মিতহাস্যে তিনি বলেন, পাড়া প্রতিবেশীরা বাবা-মা’কে বলতো মেয়েদের পড়ালেখার কি দরকার। বিয়ে দিয়ে ঝামেলামুক্ত হও। পরিবারের সাপোর্ট বিশেষ করে মায়ের সাপোর্টের ফলে পেছনের কটু কথাকে থোড়াই কেয়ার করে এ পর্যায় পর্যন্ত আসা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি মনে করেন, বর্তমানে একজন মেয়ের জন্য পড়ালেখা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক বাধা দূর হয়েছে। এখন আগের চেয়ে সচেতনতা আরো বেড়েছে। তবু কিছু ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক বাধা রয়ে গেছে। যেকোন মেয়ের সদিচ্ছা ও চেষ্টা থাকলে এসব বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। এক্ষেত্রে নিজ পরিবারে একটা আস্থাশীল ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। আছমা আরা জাহান বলেন, মায়ের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা ছাড়াও তাকে দারুণ সহযোগিতা করেছেন তার স্বামী এএসএম সাজ্জাদ হোসেন।