দুর্দান্ত সানিয়া

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৪, ২০:০২
উপমহাদেশে টেনিসের জগতে নারী খেলোয়াড়ের নাম বলতে গেলে প্রথম যার নাম সবার মনে আসে তিনি সানিয়া মির্জা। ১৯৮৬ সালে মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণকারী এ ভারতীয় টেনিস তারকার টেনিসের প্রশিক্ষণ শুরু মাত্র ছয় বছর বয়সে, বাবা ক্রীড়া সাংবাদিক ইমরান মির্জার হাত ধরে। শৈশব পার করে ধীরে ধীরে পেশাদারি টেনিসে চলে আসেন বেশ কম বয়সেই। তার ফোরহ্যান্ড গ্রাউন্ড স্ট্রোক তার খেলায় বিশেষ মাত্রা দান করে। খেলার প্রতি প্রবল আকর্ষণ আর নিজের কঠিন পরিশ্রমে মাত্র একুশ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক টেনিসে র্যাঙ্কিং এ ২৭ নম্বরে চলে আসেন ২০০৭ সালে, এখন পর্যন্ত কোন ভারতীয় নারী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে র্যাঙ্কিং এ এটিই সর্বোচ্চ, এ পর্যন্ত সানিয়ার অর্জনের তালিকাও একেবারে কম নয়। মেয়েদের দ্বৈত খেলায় ২০০৩ সালে জয়ী হন উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপ। মহেশ ভূপতির সাথে জুটি বেঁধে ২০০৯ সালে জিতে নেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা। মিক্সড ডাবলসে জয়ী হন ২০১২ সালেও, ফ্রেঞ্চ ওপেনে। কিছু দিন আগে এ বছর হরিয়া টিকাউকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যান অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে। ২০০৮, ২০১২ সালে ভারতের হয়ে অংশ নেন অলিম্পিক গেমসেও। ব্যক্তিগত জীবনে নানা বিষয় নিয়ে মাঝে মাঝেই সমালোচনার ঝড়ে পড়েছেন সানিয়া। খেলার খাতিরে তার পোশাক নিয়ে বহুবার প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের ইসলামি সংগঠনগুলো। প্রতিবারই সব সামলে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। ২০১০ সালে পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এই টেনিস তারকা। প্রতিভাবান এই টেনিস তারকা বিভিন্ন সময়ে ভূষিত হন বিভিন্ন সম্মানজনক পুরস্কারের জন্যেও। ২০০৪ সালে তিনি পান অর্জুনা পুরস্কার। টেনিসে অবদান রেখে নিজ দেশকে গর্বিত করার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে তাকে পদ্মশ্রী পুরস্কার দেয়া হয়। মাঝে কিছুদিন খেলায় পুরনো সানিয়ার অনুপস্থিতিতে অনেকেই তার দিন শেষ বলে ভবিষ্যত্বাণী করলেও পরবর্তীতে সানিয়া প্রমাণ করেন টেনিসের জন্য এখনও অনেক কিছু দেয়া তার বাকি রয়েছে।