২ লাখ ২ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

আপডেট : ২১ মে ২০১৯, ২২:৪০

আসন্ন ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। এরমধ্যে সরকারের অভ্যন্তরীণ উত্স (জিওবি) হতে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা, বৈদেশিক উত্স হতে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল হতে ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এডিপিতে সর্বোচ্চ এক-পঞ্চমাংশের বেশি প্রায় ৫২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা (২৬.০৫%) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি’র চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ সম্মেলনে জানান, এডিপিতে দারিদ্র্য বিমোচনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুত্ উত্পাদন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আইসিটি’র উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহায়ক প্রকল্প অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

সভা সূত্রে জানা যায়, চলমান মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজে যাতে ধীরগতি না হয় সেজন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা খরচ হলেও আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের তুলনায় ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে দ্বিগুণ ও ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পে (লাইন-৬) তিন গুণ বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন বাজেটে ৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে।

খাত ভিত্তিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে যথাসম্ভব কৃষি জমি পরিহার করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাছাড়া পাটশিল্পের উন্নয়নে গবেষণার তাগিদ দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার নিকট জ্বালানি তেল বিক্রি বাবদ বিপিসির অনেক টাকা বকেয়া রয়েছে। বিপিসির কাছে এনবিআরের বড় অংকের বকেয়া ভ্যাট পাওনা রয়েছে। বিষয়টি সুরাহা করতে অর্থমন্ত্রী ও এনবিআরকে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

খাতভিত্তিক বরাদ্দ:খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে প্রায় ৫২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা। এরপর বিদ্যুত্ খাতে প্রায় ২৬ হাজার ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।  ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি, শিক্ষা ও ধর্ম খাতে প্রায় ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি, বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি, গ্রামীণ অর্থনীতি তথা পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে প্রায় ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি, স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে প্রায় ১৩ হাজার ৫৫ কোটি, কৃষি খাতে ৭ হাজার ৬১৬ কোটি, পানি সম্পদ খাতে ৫ হাজার ৬৫৩ কোটি এবং  জনপ্রশাসন খাতে ৫ হাজার ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়/বিভাগ ভিত্তিক বরাদ্দ:মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ভিত্তিক বরাদ্দ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগকে ২৯ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর পর বিদ্যুত্ বিভাগ ২৬ হাজার ১৪ কোটি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি,  রেলপথ মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৫৯৯ কোটি, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ৯ হাজার ৯৩৬ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ২৭০ কোটি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ৮ হাজার ৯২৭ কোটি, সেতু বিভাগ ৮ হাজার ৫৬১ কোটি এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।

‘বালিশ কেলেঙ্কারির’ অনুসন্ধান হবে:রূপপুর পারমাণবিক বিদুুত্ কেন্দে র গ্রিনসিটি হাউজিং প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি দেখে আমি বিস্মিত। প্রকল্পে ৩ টাকার বালিশ তুলতে পাঁচ টাকা খরচ হলো কেন? বিষয়টি তদন্ত করতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) কে আমি নির্দেশনা দেবো।