সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার দাকোপ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবুল হোসেন। চিংড়ি হ্যাচারি, ইটভাটা, একটি ছোট কার্গো এবং মত্স্য ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৯ টাকা। অস্থাবর এবং স্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদ রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার। এই উপজেলায় ১৯ দলীয় জোটের সমর্থন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল খয়ের খান। মাছের আড়ত্দারী থেকে তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৪৪ হাজার। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদ রয়েছে মাত্র ৯ লাখ ২৩ হাজার ৯০০ টাকার। প্রধান দুই দলের দুই প্রার্থীর হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। হলফনামায় দেখা গেছে, বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হোসেন এসএসসি পাস। ২৫ বছর ধরে কৃষি ও মত্স্য ব্যবসার সাথে জড়িত তিনি। কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৫৮ হাজার ৯২০ টাকা। চিংড়ি, কার্গো ও ইটভাটার ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৪ টাকা। এছাড়া ভাড়া থেকে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মানী ভাতা পান ৩ লাখ ৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবুল খয়ের খান স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। কৃষি খাত থেকে তিনি ৩৬ হাজার টাকা, ভাড়া থেকে ৭৮ হাজার টাকা এবং মাছের ব্যবসা থেকে বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আয় করেন। তার কাছে নগদ ৯৪ লাখ টাকা, ১৭ হাজার টাকার স্বর্ণ এবং ১০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার আছে ১১ দশমিক ২১৫ একর কৃষি ও দশমিক ৮৭৫ একর অকৃষি জমি। দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন চালনা পৌরসভার মেয়র ড. অচিন্ত্য কুমার মন্ডল। পিএইচডি ডিগ্রীধারী এই শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন চালনা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে। কৃষি, শিক্ষকতা ও শেয়ার থেকে তার বার্ষিক আয় ৮ লাখ ২৫ হাজার ৬৬০ টাকা। দাকোপের অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ আসাদুজ্জামান জালাল স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। এর আগে তিনি খুলনা-১ ও ২ নম্বর আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ওই নির্বাচনে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। পরে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তিনি। বাছাইতে তা বাতিল হয়ে যায়। হলফনামায় দেখা গেছে, গুঁড়া মশলার ডিলারশিপ থেকে বছরে তার আয় ৫ লাখ টাকা। বিভিন্ন খাতে তার ২১ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন ও কোটিপতি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পিএইচডি ডিগ্রীধারী এই চার প্রার্থীর মধ্যে এবার দাকোপ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
