নির্বাচনী সংঘাতে লিপ্তদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে ইসি

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৬
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষকারী ও আচরণবিধি লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারে এমন কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের তাত্ক্ষণিক আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে ইসি। প্রয়োজনে যেসব এলকায় আচরণবিধি লংঘন করে সংঘাত-সংঘর্ষ হবে ওই উপজেলায় নির্বাচন বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। বিশেষ করে যেসব উপজেলায় সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন প্রভাবিত করছেন ওই সব উপজেলার বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কমিশন। একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত ও সংঘাতকারীদের গ্রেফতার করতে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। টেলিফোনের মাধ্যমে গতকালই কমিশন থেকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে সার্বিক বিষয়ে কমিশন কঠোর হলেও গতকাল পর্যন্ত নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রমকারীদের চিহ্নিত করার কোন উদ্যোগ দেখা যায় নি। এদিকে, গত শনিবার গাজীপুরের শ্রীনগরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গতকাল কমিশন থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া যেসব উপজেলায় আচরণবিধি লংঘন ও সংঘর্ষের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে ওইসব জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শনিবার গাজীপুরের শ্রীনগরে সংঘর্ষে আটকা পড়েন ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, গাজীপুর জেলা প্রশাসক, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা গাজীপুরে প্রশিক্ষণ শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল কমিশনে আলোচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গতকাল বরিশালের হিজলা উপজেলায় দলীয় সভার নামে নির্বাচনী সমাবেশ চলার খবর কমিশনে পৌঁছলে তা তাত্ক্ষণিক বন্ধ করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। উপজেলা চত্বরে বিশাল প্যান্ডেল করে বর্ধিত সভার নামে দলীয় প্রার্থীদের পরিচিতি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। কোনো অনুমতি ছাড়াই ওই সমাবেশ করার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কমিশন। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদার ইত্তেফাককে বলেন, ‘কমিশনের নির্দেশে তাত্ক্ষণিকভাবে দলের বর্ধিত সভাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। একইভাবে আরো কয়েক উপজেলায় আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ উপজেলা নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো: শাহ নেওয়াজ। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, আইন অনুযায়ী উপজেলা নির্বাচন নির্দলীয় নির্বাচন। সংসদ সদস্যরা ভোটার হলে শুধু ভোট দিতে যেতে পারবেন। তারা কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী আইন লংঘন করে প্রচারণা চালালে ভোট বন্ধ করে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, দলীয় সভার আড়ালে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক সভা না করার আহ্বান জানান তিনি। ১৭৫ উপজেলায় প্রচারণা তুঙ্গে তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে ১৭৫ উপজেলায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। প্রায় তিন কোটি ভোটারের সমর্থন আদায়ে দিন-রাত লড়ছেন দুই হাজার ৪৪০ প্রার্থী। ভোটারদের মন জয় করতে নানা কৌশল অবলম্বন ও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি পিছিয়ে নেই রাজনৈতিক দলগুলোও। দলের প্রার্থীদের জয়ী করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন নেতা-কর্মীরা। স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনেও জাতীয় ইস্যুগুলো সামনে নিয়ে আসছেন তারা। ৭ মার্চ চতুর্থ ধাপে ৯২ উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় ধাপে ৮৩ উপজেলায় প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। আইনানুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালাতে পারেন প্রার্থীরা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৫ মার্চ তৃতীয় ধাপের ৮৩ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে। প্রার্থীরা আগামী ১৩ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন। চতুর্থ ধাপের ৯২ উপজেলায় প্রচারণা ৭ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। তারা ২১ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন। ৩১ মার্চ পঞ্চম ধাপের ৭৩ উপজেলায় ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত রয়েছে। এর মাধ্যমেই মূলত চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বড় ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ করতে যাচ্ছে কমিশন।